নিজের বাড়ি, নিজের এলাকা, তার পরেও হাজার পঞ্চাশেক টাকা দিলে তবেই মিলত বসবাসের অনুমতি! এমনই অভিযোগে তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে। সেই তোলাবাজির টাকা তাঁর কাছে ফেরত চাইতে গিয়ে প্রহৃত হয়েছেন অভিযোগকারী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হলেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি গফ্ফর মল্লিক।
এলাকায় তোলাবাজি, মারধর থেকে প্রাণনাশের হুমকি— তৃণমূলের গফ্ফরের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর। রবিবার তাঁকে গ্রেফতার করে বর্ধমান জেলা আদালতে হাজির করায় মেমারি থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এলাকায় ‘শান্তিতে বসবাস করার জন্য’ তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করেছিলেন তৃণমূল নেতা। তার পর একটি ব্যক্তিগত অশান্তি মিটিয়ে দেবেন বলেছিলেন গফ্ফর। কিন্তু তা হয়নি। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের আগে একবার টাকা ফেরত চাইতে গেলে তৃণমূল নেতা মারধর, গালাগালি করে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ। এমনকি, খুনের হুমকি দেন। ওই নিয়ে মেমারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সেই ব্যক্তি। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তৃণমূল নেতাকে পাকড়াও করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন:
গফ্ফর অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রবিবার পুলিশি ঘেরাটোপে থানা থেকে আদালতে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনও দিনই এ সব কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’’ যদিও বিজেপির লোকজনের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অন্যায্য কাজ করতেন তৃণমূল নেতা।
অন্য দিকে, পুর পরিষেবা না-পাওয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মেমারি পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ পুর-বোর্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। শনিবার রাতে তাদের কর্মী-সমর্থকেরা চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।