দু’মাস আগে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়েছিল ছ’বছরের এক শিশুকন্যার। মা বলেছিলেন, আগের রাতে বিরিয়ানি এবং আইসক্রিম খেয়েছিল মেয়ে। পুলিশও প্রথমে অনুমান করেছিল, খাবারে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ওই মৃত্যুরহস্যের দু’মাস পেরিয়ে এ বার কন্যা-খুনের অভিযোগে মহিলার খোঁজ শুরু করল পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর কাডুগোড়ি থানা এলাকায়। শিশুর মা পি প্রিয়ঙ্কা এবং তাঁর প্রেমিক মোহন জি মহালিঙ্গাপ্পার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মোহনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রিয়ঙ্কা এলাকা থেকে বেপাত্তা। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
গত ২৪ মার্চ প্রিয়ঙ্কার জন্মদিন ছিল। ওই রাতেই প্রেমিকের সঙ্গে মিলে তিনি নিজের মেয়েকে খুন করেন বলে অভিযোগ। প্রথমে প্রিয়ঙ্কা শ্বশুরবাড়িতে বলেছিলেন, তিনি মেয়েকে বিরিয়ানি এবং আইসক্রিম খাইয়ে গাড়িতে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলেন। গাড়িতে তখন এসি চলছিল। মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে তিনি মোহনের সঙ্গে একটি কফি শপে গিয়েছিলেন। পরে বাড়ি ফিরে ঘুমন্ত অবস্থাতেই মেয়েকে বিছানায় শুইয়ে দেন। কিন্তু পরের দিন মেয়ে আর ঘুম থেকে ওঠেনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক ওই শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
প্রাথমিক ভাবে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিন্তু সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে মহিলার বয়ানে বার বার অসঙ্গতি ধরা পড়ছিল। অন্য দিকে, প্রিয়ঙ্কার প্রেমিক মোহনও আগাম জামিনের আবেদন জানান। তাতে পুলিশের সন্দেহ আরও বৃদ্ধি পায়। এরই মধ্যে প্রিয়ঙ্কার স্বামী প্রবীণ বাসাপ্পা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। স্ত্রী এবং মোহনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলেন তিনি।
পুলিশকে প্রবীণ জানান, প্রিয়ঙ্কা পেশায় আইনজীবী। তাঁদের ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। কিন্তু ২০২৫ সালে কলেজ জীবনের বন্ধু মোহনের সঙ্গে ফের যোগাযোগ হয় প্রিয়ঙ্কার। প্রবীণের দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গোপনে বিয়েও করেন প্রিয়ঙ্কা এবং মোহন। নববর্ষ উদ্যাপন করতে দু’জনে দুবাইয়েও গিয়েছিলেন বলে পুলিশকে জানান প্রিয়ঙ্কার স্বামী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পরে ইতিমধ্যে মোহনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুকে গাড়িতে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল না কি বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।