বার বার চার বার। তিন বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে হারার পর অবশেষে চতুর্থ বারে বাজিমাত করলেন আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভ। জার্মানির খেলোয়াড় ফরাসি ওপেনের ফাইনালে ৬-১, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৭, ৬-১ গেমে হারিয়েছেন ইটালির ফ্লাভিয়ো কোবোল্লিকে।
দ্বিতীয় বাছাই জ়েরেভ এই গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন এমন সময়ে, যখন ট্রফির দাবিদারেরা আগেই ছিটকে গিয়েছেন। ফিট না থাকার কারণে দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নেন ইয়ানিক সিনার। একই রাউন্ডে ব্রাজ়িলের জোয়াও ফনসেকার কাছে হেরে যান নোভাক জোকোভিচ। কার্লোস আলকারাজ় চোটের কারণে প্রতিযোগিতাতেই খেলেননি। ফলে জ়েরেভই ছিলেন ট্রফি জেতার প্রধান দাবিদার।
৩০ বছর পর জার্মানির কোনও খেলোয়াড় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন। শেষ বার বরিস বেকার এই কাজ করেছিলেন। ১৯৯৬-এ তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন। ১৯৯১-এ উইম্বলডন জেতেন মাইকেল স্টিখ। ডোমিনিক থিম এবং ড্যানিল মেদভেদেভের পর ’৯০-এর দশকে জন্মা তৃতীয় খেলোয়াড় হিসাবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন জ়েরেভ।
অতীতে তিন বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে হেরেছিলেন জ়েরেভ। ২০২০-র ইউএস ওপেন ফাইনালে থিমের কাছে, ২০২৪ ফরাসি ওপেন ফাইনালে আলকারাজ়ের কাছে এবং ২০২৫ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে সিনারের কাছে হেরেছিলেন।
বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় সিনার ইটালীয়। তাঁরই দেশের কোবোল্লি অনেক আশা জাগিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। সেমিফাইনাল খেলতে হয়নি তাঁকে। স্বদেশি এবং ভাল বন্ধু মাত্তেয়ো আর্নাল্দি পেটের সমস্যার কারণে ম্যাচ ছেড়ে দেন। তাঁকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল কোবোল্লিকে। তবে ফাইনালে যথেষ্ট লড়াই করেছেন তিনি। আদ্রিয়ানো পানাত্তা, নিকোলা পিয়েত্রাঞ্জেলি এবং সিনারের পর চতুর্থ ইটালীয় হিসাবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের দোরগোড়ায় ছিলেন তিনি। তা আর হল না।
ফিলিপ শঁতিয়ে কোর্টে জার্মান খেলোয়াড় শান্ত এবং নিয়ন্ত্রিত ভঙ্গিতে খেলে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কোবোল্লি স্নায়ুর চাপে ভুগেছেন প্রথম সেটে। দ্বিতীয় সেটে অনেক আগ্রাসী হয়ে ফিরে আসেন। ড্রপ শট এবং কোর্টে নড়াচড়ায় বদল আনেন। তবে তৃতীয় সেটের দশম গেমে কোবোল্লির ভুল ম্যাচে ফেরত আনে জ়েরেভকে। চতুর্থ সেটে ইটালির খেলোয়াড় আবার ফিরে আসেন। ৫-৩ এগিয়ে থাকা অবস্থায় ৫-৫ হয়ে গেলেও টাইব্রেকারে জেতেন তিনি। কিন্তু পঞ্চম সেটে ০-৪ পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেননি।
রবিবার ফিলিপে শঁতিয়ে কোর্টে ম্যাচ দ্রুত গতিতে শুরু করেন জ়েরেভ। তিনি প্রথম গেমেই ব্রেক করেন কোবোল্লিকে। ইটালীয় খেলোয়াড়ের ফোরহ্যান্ড আছড়ে পড়ে নেটে। সেখান থেকে দ্বিতীয় বাছাই জ়েরেভ ম্যাচের রাশ ধরে নেন। নিজের সার্ভ ধরে রাখার পাশাপাশি অনবরত কোবোল্লিকে চাপে ফেলতে থাকেন। জ়েরেভের শক্তিশালী শটে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল কোবোল্লি।
তবে ইটালির খেলোয়াড় দ্বিতীয় সেট থেকে অনেক বেশি আগ্রাসন এবং কর্তৃত্ব নিয়ে খেলতে শুরু করেন। তবে সেটের প্রথম দিকে জ়েরেভও কম লড়াই দেননি। ৩-৩ অবস্থায় ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান তিনি। তবে তাঁর আনন্দ বেশি ক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছু ক্ষণ বাদেই জ়েরেভের একটি ফোরহ্যান্ড বাইরে যেতে তাঁকে ব্রেক করেন কোবোল্লি। অনেক বেশি স্বাধীনতা নিয়ে খেলছিলেন তিনি। ড্রপ শটও বুদ্ধি করে ব্যবহার করছিলেন। ফলে তাঁর আগ্রাসন বজায় ছিল। সেটও পকেটে পুরে নেন তিনি।
তৃতীয় সেটের শুরুতে সমস্যায় পড়েন কোবোল্লি। ১-২ পিছিয়ে থাকার সময়ে সার্ভ এবং ভলির সাহায্যে ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান। পর মুহূর্তেই নিজের সার্ভিস ধরে রাখেন। জ়েরেভও নিজের খেলায় নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলেন। কোবোল্লির ড্রপ শটের পাল্টা দিতে শুরু করেন তিনি। দশম গেমে কোবোল্লির চারটি ভুল কাজে লাগিয়ে ব্রেক করেন জ়েরেভ।
আরও পড়ুন:
কোবোল্লির চাপের কাছে হার না মেনে জার্মান খেলোয়াড় স্নায়ু ধরে রাখেন। চতুর্থ সেটের প্রথম গেমে তিনটি আনফোর্সড এরর করে চাপে পড়েছিলেন। পরে আরও একটি সার্ভ হারান। ৩-৫ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি খেলা ৫-৫ করে দেন। টাইব্রেকারে কোবোল্লি ১-৩ থেকে ফেরত আসেন। তাঁর ফোরহ্যান্ড উইনার জ়েরেভের নাগাল পেরোতেই খেলা গড়ায় পঞ্চম সেটে।
পঞ্চম সেটের শুরুতেই কোবোল্লিকে ব্রেক করেন জ়েরেভ। ৪০-১৫ এগিয়ে থাকা অবস্থাতেও এক সময় সেই গেম ডিউস হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে কোবোল্লির ভুলে ব্রেক করেন জ়েরেভ। পরের গেমে নিজের সার্ভিস ধরে রাখেন। তৃতীয় গেমে আবার কোবোল্লিকে ব্রেক করেন তিনি। ওখানেই ম্যাচের ফলাফল নিশ্চিত হয়ে যায়। চতুর্থ গেমে এক সময় ১৫-৪০ পিছিয়ে পড়লেও নিজের সার্ভিস ধরে রাখেন জ়েরেভ। তখন তাঁকে অনেক আত্মবিশ্বাসী লাগছিল। সেটাই বজায় থাকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত।