পাশাপাশি দুই কবর। এক দিকে পুত্রের। অন্য দিকে স্ত্রীর। মাঝখানে পড়ে রয়েছে এক ব্যক্তির নিথর দেহ। দুই কবরের উপর দুই হাত।
১১ দিন আগে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে উত্তরপ্রদেশের মহোবা জেলার চরখারি এলাকায় মৃত্যু হয় হাসনাইন আহমেদ নামে এক শিশুর। পুত্রের মৃত্যুশোক সহ্য করতে না-পেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হয় রাজিয়া খাতুনের। প্রায় একই সঙ্গে স্ত্রী-পুত্রের মৃত্যুকে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন ৪০ বছর বয়সি সুবহান। পরিবার সূত্রে খবর, গত ১১ দিন ধরে রোজ স্ত্রী-পুত্রের কবরে যেতেন সবহান। খাওয়াদাওয়া ছেড়েই দিয়েছিলেন।
গত ২৫ মে হাসনাইনের মৃত্যু হয়। পুত্রের মৃত্যুর খবর পেয়ে জ্ঞান হারান রাজিয়া। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও লাভ হয়নি। বাঁচানো যায়নি রাজিয়াকে। তাঁদের আরও তিন সন্তান রয়েছে। হাসনাইন কনিষ্ঠপুত্র। শুক্রবার ভোর ৪টে নাগাদ স্ত্রী-পুত্রের কবরস্থানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বার হয়েছিলেন সুবহান। প্রায় দু’ঘণ্টা কাটার পরেও তিনি বাড়ি না-ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়ে পরিবার। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। কবরস্থানে গিয়ে পরিবারের লোকেরা দেখেন, স্ত্রী-পুত্রের কবরের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সুবহান। ওই অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছোয় পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কী কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মহম্মদ সেলিম নামে এক আত্মীয় জানান, স্ত্রী-পুত্রকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান ছিলেন সুবহান। তাঁর মৃত্যুতে অনাথ হয়ে গেল বছর সতেরোর সইফ, বছর চোদ্দর রোশনি এবং বছর এগারোর আলিয়া।