ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় এলাকাগুলিতে আটকে পড়েছেন বহু প্রবাসী ভারতীয়। তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। উদ্ধার হওয়া এমনই এক ভারতীয় ছাত্র দীপক গাইকোয়াড় শোনালেন তাঁর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা।
দীপক কুয়েতে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে প্রশ্নের মুখে তাঁর ভবিষ্যৎ। নাগপুর-ভিত্তিক উদ্ধারকারী সংস্থা ‘দ্য প্ল্যাটফর্ম’-এর সহায়তায় তিনি আপাতত লন্ডনে পৌঁছেছেন। কিন্তু একের পর এক হামলার ঘটনা এখনও ঘুরেফিরে আসছে তাঁর মনে। দীপকের কথায়, “আমি দেখলাম আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। আমি এক মুহূর্তের জন্য ভয়ে স্তব্ধিত হয়ে গিয়েছিলাম। সাইরেনের শব্দ এক বারের জন্যও থামেনি। মনে হচ্ছিল, ওটাই আমার শেষ দিন।”
তবে শুধু দীপকই নন, কুয়েতে বাড়তে থাকা ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অনবরত বেজে চলা সাইরেনের শব্দ, মৃত্যুভয়ের আশঙ্কায় আরও কয়েক জন ভারতীয় সেই দেশ ছেড়ে পালানোর কথা ভাবছিলেন। ওই উদ্ধারকারী সংস্থা আরও দুই পরিবারের ছ’জন ভারতীয়কে নিয়ে নিরাপদে লন্ডনে পৌঁছেছেন। উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এ ছাড়াও সংস্থাটি দুবাইতে আটকে পড়া এক মহিলাকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
‘দ্য প্ল্যাটফর্ম’-এর সমন্বয়ে পরিচালিত এই উদ্ধার অভিযানে কুয়েতের মহারাষ্ট্র মণ্ডলের মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থা করা এবং সৌদি সীমান্ত পেরিয়ে স্থলপথে পরিবহনের আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। সূত্রের খবর, এখনও ২০০-র বেশি ভারতীয় পড়ুয়া কুয়েত, দুবাই এবং সৌদি আরবে আটকে রয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)