আট ঘণ্টা ধরে ২০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে রইলেন বাইকচালক কমল ধ্যানি। কেউ টেরও পেলেন না? এই প্রশ্ন যখন ঘুরপাক খাচ্ছে, সেই সময় বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে আসে পুলিশের। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পাইপলাইনের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তে এক যুবক বাইক নিয়ে পড়ে গিয়েছেন, বাইকের আলো তখনও জ্বলছিল। তার পাশেই গুরুতর জখম অবস্থায় পড়েছিলেন ওই যুবক। গর্তের ভিতর থেকে আলোর রেখা দেখতে পেয়ে কৌতূহলবশত অনেকেই উঁকি মেরে দেখেছেন। কিন্তু সাহায্যের জন্য কেউই এগিয়ে আসেননি। এমনকি পুলিশ বা অ্যাম্বুল্যান্সেও ফোন করেননি।
পুলিশের একটি সূত্র আবার বলছে, পথচারীদের কয়েক জন আবার ঠিকাদারকে খবর দিয়েই দায় সারেন। তার পর ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। কেউ কেউ আবার কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করেও চলে যান। সকালে কমলের দেহ উদ্ধার হয়। প্রশ্ন উঠছে, রাস্তায় এত বড় একটা কাজ চলছে, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও গাড়ি বা বাইকচালকদের সতর্ক করার জন্য কেন ওই গর্তের চারপাশে ব্যারিকেড দেওয়া হল না। কেন কোনও রিফ্লেক্টর বা লাল আলো লাগানো ছিল না? দিল্লি জল বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিক দারাদে শরদ ভাস্কর জানিয়েছেন, এক পথচারী বিয়েবাড়ি থেকে ফিরছিলেন। তিনি এক রক্ষীকে বিষয়টি জানান। সেই রক্ষী আবার এক শ্রমিককে জানিয়েছিলেন। সেই শ্রমিক আবার ঘটনাস্থলে আসেন। গর্তে উঁকি মেরে দেখেন। তার পর চলে যান। তিনি ঠিকাদারকে খবর দেন। ঠিকাদার রাজেশ প্রজাপতি ২০ মিনিট পর আসেন। তিনিও উঁকি মেরে দেখেন। উদ্যোগী না হয়েই ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত ১২টা নাগাদ বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় খোলা গর্তের মধ্যে বাইক নিয়ে পড়ে যান কমল। তার কিছু ক্ষণ আগেই বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছিলেন ১০ মিনিটের মধ্যে আসছেন। কিন্তু তার ফোন বেজে গেলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। কিছু একটা আঁচ করে কমলের পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাঁর যমজ ভাই করণের দাবি, চারটি থানা ঘুরেছেন। কিন্তু কোনও রকম সহযোগিতা পাননি। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ শুধু দাদার শেষ অবস্থান কোথায় ছিল সেটা জানিয়ে দায় সেরেছে।’’ তার পরই শনিবার সকালে গর্ত থেকে কমলের দেহ উদ্ধার হয়।
বাইকারের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্নের মধ্যেই নিরাপত্তা নিয়ে পদক্ষেপ করতে তৎপর হল প্রশাসন। যে সব জায়গায় কাজ চলছে, সেই জায়গা ব্যারিকেড করতে হবে। পথচারীরা যাতে বুঝতে পারেন ওখানে গর্ত রয়েছে বা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ হয়েছে, তার সঠিক ব্যবস্থা করতে হবে। কোনও গর্ত খোলা অবস্থায় রেখে দেওয়া যাবে না। তার চারপাশে গার্ডরেল দিয়ে ব্যরিকেডের ব্যবস্থা করতে হবে। রিফ্লেক্টর লাগাতে হবে। প্রয়োজনে রাস্তার অভিমুখ ঘুরিয়ে দিতে হবে সাময়িক ভাবে।