Advertisement
E-Paper

‘ভুল করে হয়ে গিয়েছে’! লখনউয়ে ব্যবসায়ী পিতাকে খুনের পর স্বীকারোক্তি অভিযুক্ত পুত্রের, আর কী বললেন?

সূত্রের খবর, অক্ষতের এই স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর আত্মীয় এবং পরিচিতেরা অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এটা অনুশোচনা, না কি অনুশোচনার ভান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১০
(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত যুবক অক্ষত সিংহ। (ডান দিকে ইনসেটে) অক্ষতের বাবা মানবেন্দ্র। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত যুবক অক্ষত সিংহ। (ডান দিকে ইনসেটে) অক্ষতের বাবা মানবেন্দ্র। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভুল করে এই কাজ করে ফেলেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে ব্যবসায়ী পিতা মানবেন্দ্র সিংহকে খুনের পর এমনই দাবি করেছেন অভিযুক্ত পুত্র অক্ষত সিংহ। মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য অক্ষতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সময় তিনি সংবাদমাধ্যম আজ তক-এর কাছে দাবি করেন, ভুল করে হয়ে গিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এই ঘটনায় তাঁর বোন কীর্তিও কি জড়িত? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে ‘না’ বলেন। তার পরই সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, ‘‘এ কাজ করতে চাইনি। ভুল করে হয়ে গিয়েছে।’’

সূত্রের খবর, অক্ষতের এই স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর আত্মীয় এবং পরিচিতেরা অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এটা অনুশোচনা, না কি অনুশোচনার ভান। যদিও আত্মীয়দের বেশির ভাগই অক্ষতের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই ঘটনা যখন প্রকাশ্যে এসেছে, প্রথম থেকেই একটি তত্ত্ব জোরালো হয়েছে যে, মানবেন্দ্র চাইতেন তাঁর পুত্র নিটের প্রস্তুতি নিন। ডাক্তার হন। কিন্তু তা চাইতেন না অক্ষত। আর তা নিয়েই মানবেন্দ্রের সঙ্গে প্রায়ই অশান্তি হত। ২০ ফেব্রুয়ারি সেই অশান্তি চরমে ওঠে। আর তার পরই মানবেন্দ্রকে গুলি করে অক্ষত হত্যা করেন বলে অভিযোগ।

কিন্তু তদন্তকারীদের একটি সূত্র বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পড়াশোনা অন্যতম কারণ হতে পারে ঠিকই, কিন্তু অক্ষতের মূল লক্ষ্য ছিল তাঁর বাবার ব্যবসা। মানবেন্দ্রের দিদি সরলা সিংহের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নিট আসল কারণ নয়। অক্ষতকে তাঁর বাবা বলেছিলেন যে, যত টাকাই খরচ হোক না কেন, যত দামি কলেজ হোক না কেন, তাঁকে ভর্তি করাবেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি যে, পুত্রের ভিতরে এত ঘৃণা এবং বিদ্বেষ জন্ম নিয়েছে। সরলা বলেন, ‘‘ভাইঝি আমাকে বলেছে যে, অক্ষতের হাতে বন্দুক দেখে ও ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তখন বলেছিল, দাদা এটা কী করছিস? তখন অক্ষত বলেছিল, আমার মাথা গরম আছে। চুপ কর। তার পরই মানবেন্দ্রকে গুলি করে।’’ সরলা জানান, মানবেন্দ্র শুধু তাঁর দাদা নয়, এক জন বাবার মতো আগলে রেখেছিলেন। তাঁকে বিয়ে দিয়েছেন। এলাকাতে আলোচনা শুরু হয়েছে মানবেন্দ্রের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। যদিও সরলা সেই তত্ত্বকে নস্যাৎ করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্রুয়ারি মানবেন্দ্রকে গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে। তার পর তাঁর দেহ খণ্ড করে হাত, পা এবং মাথা প্লাস্টিকে মুড়ে ফেলে দিয়ে আসেন পাশের গ্রামে। বাকি অংশ একটি নীল ড্রামের মধ্যে ভরে ঘরের মধ্যে রেখে দেন। লখনউয়ের এই হত্যাকাণ্ড শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Crime
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy