E-Paper

ওয়াশিংটনের ভারত-পাকিস্তান ভারসাম্য, রয়েছে দ্বিমতও

আমেরিকার বক্তব্য, ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গেই কাজের সম্পর্ক বহাল রাখতে চায় তারা। উদ্দেশ্য, আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং সংঘাতের আবহ কমানো।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও সঙ্কট তৈরি হলে আমেরিকার পক্ষে একতরফা ভাবে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন মাধ্যমে আমেরিকার কর্তারা ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় এই বার্তা স্পষ্ট করেছেন। ওয়াশিংটনের বক্তব্য, এটা ঠিকই যে, ভারত শুধু আমেরিকার মুখ্য কৌশলগত অংশীদারই নয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় নীতির প্রশ্নেও নয়াদিল্লির গুরুত্ব আমেরিকার কাছে যথেষ্ট। কিন্তু সে কারণে যদি মনে করা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে আমেরিকা নিঃশর্ত ভাবে নয়াদিল্লির সঙ্গে জোট বাঁধবে, তা হলে তা ভুল ভাবা হচ্ছে। আমেরিকার কর্তাদের বক্তব্য, ‘আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা’ থেকে ‘জাতীয় স্বার্থ’ এবং ‘কৌশলগত বাস্তবতা’-কে গুরুত্ব দিয়ে তাদের তরফে বিদেশ নীতির হেরফের করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বার্তা স্পষ্ট, নীতিগত কোনও অক্ষ নয়, নিজেদের ভারত-পাকিস্তান নীতির প্রশ্নে বিষয়ভিত্তিক জোটই বজায় রাখবে আমেরিকা।

আমেরিকার বক্তব্য, ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গেই কাজের সম্পর্ক বহাল রাখতে চায় তারা। উদ্দেশ্য, আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং সংঘাতের আবহ কমানো। আমেরিকার ধারাবাহিক অবস্থান, দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনার আবহকে সামলে রাখা, কারও পক্ষ নেওয়া নয়। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সঙ্কটকালে, কূটনৈতিক ভাবে ইসলামাবাদকে একঘরে করার কোনও চেষ্টা তারা করবে না। যদিও ভারতের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়েছে এসেছে ওয়াশিংটন।

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের অবশ্য বক্তব্য, আমেরিকার নিজের নীতির মধ্যেই দ্বিচারিতা বা বিভাজন রয়েছে। সে দেশের বিদেশ দফতর পাকিস্তানের প্রতি ঝুঁকে রয়েছে। হোয়াইট হাউস তথা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সখ্য নজিরবিহীন ভাবে বেড়েছে। অপারেশন সিঁদুরের পর প্রকাশ্যেই এই ঘনিষ্ঠতা দেখিয়েছে হোয়াইট হাউস। আপাতত ইরানের সঙ্গে সংঘাতে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতার কাজে লাগানো হচ্ছে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ ইসলামাবাদ সম্পর্কে কট্টর মনোভাব নিয়েই চলছে। গত সপ্তাহেই ‘সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটি’-র সামনে পেশ করা বক্তব্যে আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’-এর ডিরেক্টর আভরিল হেইনস বিশদে জানিয়েছেন, রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের পাশাপাশি পাকিস্তানও তাদের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লায় আমেরিকাকে নাগাল পেতে কাজ চালাচ্ছে। বিষয়টি আমেরিকার জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ। ফলে সে দেশের বিদেশ দফতর পাকিস্তানকে আঞ্চলিক সুস্থিতির জন্য কাজে লাগালেও, সে দেশের নিরাপত্তা বিভাগ কিন্তু তার উল্টোটাই মনে করছে।

এক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে, চিনের মতো বৃহৎ শক্তির মোকাবিলা করতে ভারতকে প্রয়োজন আমেরিকার। কিন্তু সেই প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে তাদের উপমহাদেশীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হোক, এটা চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। অন্য দিকে, বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক, নিজেদের কৌশলগত হিসাবনিকাশ ও সমীকরণের উপরই নির্ভর করবে। আমেরিকা বা বাইরের কোনও রাষ্ট্রের চাহিদা মাফিক বা চাপের কারণে সেই নীতি তৈরি করা হবে না। ভারতীয় কর্তাদের মতে, আমেরিকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সমন্বয় বাড়ানো, যৌথ উৎপাদনে যাওয়ার মতো বিষয়গুলির মধ্যে জোটধর্মী কোনও দায়বদ্ধতা থাকছে না। বিশেষ করে মাঝখানে পাকিস্তান এসে গেলে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Washington

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy