মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ সরকারি আধিকারিকদের অপসারণ নিয়ে তৃণমূলের করা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না আদালত। একই সঙ্গে বিডিও এবং থানার ওসি-দের অপসারণ নিয়ে করা মামলাও খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। মঙ্গলবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ এই দুই মামলা খারিজ করে দেয়।
রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে একের পর এক আমলা এবং পুলিশকর্তাকে বদলি করেছে কমিশন। তা নিয়ে হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। গত ২৩ মার্চ মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে ওঠে। মামলাকারীর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আধিকারিক অপসারণ নিয়ে কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছিলেন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়েও।
গত ১৫ মার্চ রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়েছে। ওই রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয় কমিশন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবের পদ থেকে সরানো হয় জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। সেই প্রসঙ্গে কল্যাণ আদালতে বলেন, “রাতারাতি আধিকারিকদের অপসারণ করা হয়েছে। মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র সরিয়ে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সমস্যা মুখ্যসচিব দেখছেন। তাঁকে সরিয়ে দিল। স্বরাষ্ট্রসচিব নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁকে শুধু সরিয়েই দেয়নি, অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে।”
মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের পর অপসারণের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হয়েছে। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে একের পর এক আধিকারিক এবং পুলিশকর্তাকে। কী উদ্দেশ্যে এই বদলিগুলি করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। আদালতে মামলাকারীর বক্তব্য ছিল সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতা আছে। কিন্তু তা অসীম নয়। কমিশন ইচ্ছামতো কাজ করতে পারে না বলে সওয়াল করা হয়। মামলাকারীর তরফ থেকে এ-ও বলা হয় যে, কমিশনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে (রাজ্য-কেন্দ্র ভারসাম্য) নষ্ট করছে।
কমিশনের তরফে পাল্টা সওয়াল করে বলা হয়েছিস, অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার জন্য এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। গত শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী বলেছিলেন, “এই সব সিদ্ধান্তের (আধিকারিকদের অপসারণ) নেপথ্যে অনেক কারণ রয়েছে। পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে, সব জায়গায় পরিস্থিতি এক নয়। অন্যত্রও অফিসার বদলি করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়।”
এক দিনের মধ্যে রাজ্যের বিডিও এবং বিভিন্ন থানার ওসি-সহ ২৬৭ জন আধিকারিককে অপসারণ করেছে কমিশন। সোমবার কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন কল্যাণ। দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তাঁকে মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের করা হলে খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।