E-Paper

পালাবদলে সতর্ক নজর ও পারের

পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার আন্তঃসীমান্ত নদীগুলি নিয়ে কোন ভূমিকায় আসরে নামে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, দু’টি দেশের মধ্যে বয়ে যাওয়া নদী এবং অনুপ্রবেশের মতো বিভিন্ন কারণে পশ্চিমবঙ্গের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট ঢাকার কাছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৯:২৯

— প্রতীকী চিত্র।

বাংলাদেশ লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিদায় এবং বিজেপির আগমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ঢাকায়। ভারতের কূটনৈতিক মহলেও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কী ভাবে প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, কূটনৈতিক প্রথার বাইরে গিয়ে এই প্রথম বাংলাদেশে হাই কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে আদ্যন্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অধুনা বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে। তিনি চলতি মাসেই ঢাকা যাচ্ছেন বলে খবর।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার আন্তঃসীমান্ত নদীগুলি নিয়ে কোন ভূমিকায় আসরে নামে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, দু’টি দেশের মধ্যে বয়ে যাওয়া নদী এবং অনুপ্রবেশের মতো বিভিন্ন কারণে পশ্চিমবঙ্গের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট ঢাকার কাছে। তিস্তা চুক্তি রূপায়ণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আপত্তিতে ঝুলে রয়েছে ২০১১ সাল থেকে। এ বার কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় এই চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে, এই আশা তৈরি হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। তবে অবশ্যই উদ্বেগরয়েছে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গটি নিয়ে। গত কালই বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ‘পুশ ইন’-এর ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ।’’

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রশ্নে এবং ভোটের রাজনীতিতে বিজেপির অনুপ্রবেশ নীতির একটি বড় ভূমিকা রয়েছে সেটা অজানা নয় ঢাকার নতুন সরকারের। অনুপ্রবেশ, চোরাচালানের মতো বিষয়গুলি বিজেপির ভোট ভাষ্যে নানা ভাবে উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারের সময়ে বারবার বলেছেন, যাঁরা ভারতের নাগরিক নন তাঁদের ‘পুশ ব্যাক’ করা হবে। এই বিষয়টি অবশ্যই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কী ভাবে প্রভাব ফেলেসে দিকেও নজর রাখছেকূটনৈতিক শিবির।

বাংলাদেশের কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি বলেছেন, “নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রচারে বিভিন্ন বিষয় ওঠে। কিন্তু সরকারকে মাঝপথ দিয়ে চলতে হয়, মধ্যপন্থী হতে হয়। সেখানে উগ্রতার জায়গা খুব বেশি নেই৷ উগ্র হলেই নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হবে। আইনশৃঙ্খলা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থানের ক্ষতি হবে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হন কি বিজেপি— যাঁরাই শাসন ক্ষমতায় থাকুন তাঁরা তা করতে চাইবেন না বলেই মনে হয়।’’ সে দেশের কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, বাংলাদেশ সমতার ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তবে ‘পুশ-ইন’ করা, সীমান্তে গোলমাল করা বা কোনও কারণে যদি ঢাকা বুঝতে পারে যে ভারত পশ্চিমবঙ্গকে ব্যবহার করছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, তা হলেসম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে না। এতে উভয়েরই ক্ষতি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

India-Bangladesh TMC BJP Bangladesh West Bengal Politics West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy