অমিত শাহের পর এ বার জেটলিকে ক্লিনচিট দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডিডিসিএ বিতর্কে এই প্রথম মুখ খুলে মোদী জানিয়েছেন, ক্রিকেট বিতর্কে “সম্পূর্ণ নির্দোষ” প্রমাণিত হবেন অরুণ জেটলি। সংসদের অধিবেশনের আগে মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বৈঠকে বসে বিজেপি-র সংসদীয় কমিটি। প্রধানমন্ত্রী সেই বৈঠকে বলেছেন, “হাওয়ালা কাণ্ডে যে ভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন আডবাণী, সে ভাবেই নিজেকে দোষমুক্ত প্রমাণ করবেন জেটলি।”
দলের অন্দরে লালকৃষ্ণ আডবাণী-সুষমা স্বরাজ গোষ্ঠীকে একটি সূক্ষ্ম খোঁচা দিতেই কি এ মন্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে, তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এ দিন কীর্তি আজাদ প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকেন মোদী। প্রসঙ্গত, কীর্তির মুখ খোলার পিছনে যে বিজেপি-র প্রবীণ সদস্যদের যে প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে, সে জল্পনাও চলছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ জেটলির
দিল্লি ও জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ডিডিসিএ)-এ দুর্নীতি নিয়ে কংগ্রেস এবং আপের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে। গত কাল অরবিন্দ কেজরীবাল-সহ পাঁচ আপ নেতার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মামলাও করেন জেটলি। কিন্তু, বিরোধীদের সমালোচনা নয়, অন্দরের আক্রমণে অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি সরকার। দলীয় সাংসদ কীর্তি আজাদ প্রকাশ্যেই জেটলির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। শুধু তাই নয়, আপের মতোই তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার জন্য জেটলিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি। আডবাণী-গোষ্ঠী যে কীর্তিকে অক্সিজেন যোগাচ্ছে, তা নিয়েও কানাঘুঁষো চলছে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের পরই যে কীর্তিকেদল থেকে সাসপেন্ড করা হতে পারে সে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে এ সব সত্ত্বেও কীর্তি নিয়ে এ দিন নীরব থাকাই ঠিক মনে করলেন মোদী।
অন্দরের আক্রমণ সামলাতে মোদী যখন জেটলির পাশে দাঁড়িয়েছেন, তেমনই বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঢাল বার করছে বিজেপি। এ দিন বৈঠকের পর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, “আসলে বিজেপিকে বদনাম করার জন্য নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন কংগ্রেস।”
সোমবারই বিতর্কের জল গড়িয়েছিল আদালতে। মানহানির মামলায় এ দিন আপ নেতাদের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। তিন সপ্তাহের মধ্যেই তাদের কাছে জবাব তলব করা হয়েছে। মামলায় পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি।