মায়ানমার ও আফ্রিকা থেকে ডাল এনে বাজারের দামে লাগাম পরানোর সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার।
ডালের দাম কেজি প্রতি ১৭০ টাকা ছুঁয়েছে। ফসলের ক্ষতি হওয়ায় সব্জির বাজারে টোম্যাটোর দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। বাড়ছে আলুর দামও। দৈনন্দিন বাজারের তালিকায় থাকা এই সব খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়ার ফলেই মে মাসে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ৫.৭৬ শতাংশ ছুঁয়েছে। গত সপ্তাহে সুদ নীতির পর্যালোচনা করতে বসেও এই আশঙ্কার কথাই জানিয়েছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর রঘুরাম রাজন। সেই আশঙ্কা থেকে তিনি সুদের হারও কমাননি।
মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানতে না পারলে যে বিপদ, সেই উদ্বেগেই পরিস্থিতির মোকাবিলায় মন্ত্রীদের নিয়ে আজ বৈঠক বসেন অরুণ জেটলি। সিদ্ধান্ত হয়, মায়ানমার ও আফ্রিকা থেকে ডাল আমদানি করে দাম কমানো হবে। খুব শীঘ্রই ওই দেশগুলিতে সরকারি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। সেখান থেকে ভারত সরকার সরাসরি ডাল কিনতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মজুত করা ডাল থেকেও রাজ্যগুলিকে আরও ডাল সরবরাহ করা হবে। কেন্দ্রীয় খাদ্য সরবরাহ মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান বলেন, ‘‘বাফার স্টক হিসেবে ১ লক্ষ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন ডাল মজুত রয়েছে। রাজ্যগুলিকে আমরা অনুরোধ করছি, সেখান থেকে ডাল নিয়ে বাজারে সর্বাধিক ১২০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করতে। তা হলে বাজারে ডালের দামও কমে আসবে।’’ কিন্তু এখনও বহু রাজ্য ডালের প্রয়োজনের কথাই জানায়নি বলেই সরকারি সূত্রের দাবি। আজকের বৈঠকে জেটলি, রামবিলাস ছাড়াও বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ, পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী, কৃষিমন্ত্রী রাধামোহন সিংহ হাজির ছিলেন। মূল্যবৃদ্ধির কারণ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ঠিক হয়, সরকারি গুদামে মজুত ডালের পরিমাণও বাড়ানো হবে। এ বছর দেড় লক্ষ টন ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এখনও পর্যন্ত ১.১৫ লক্ষ টন ডাল কেনা হয়েছে। ডালের দাম কমাতে সরকারি মজুত থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার টন ডাল বাজারে ছাড়া হয়েছে। মোদী সরকারের বক্তব্য, দেশে চাহিদা অনুযায়ী ডাল উৎপাদন হয় না। এই মরসুমে দেশে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টন উৎপাদন হবে বলে অনুমান। কিন্তু চাহিদার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৩৫ লক্ষ টন। গত বছর বিদেশ থেকে ৫৫ লক্ষ টন ডাল আমদানি হয়েছিল। সম্প্রতি ডালের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যও বাড়ানো হয়েছে। তার সঙ্গে ভাল বর্ষার সুবাদে ডালের উৎপাদন বাড়বে বলেও মন্ত্রীর আশা। সরকারি সংস্থাগুলির মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৫০০ টন ডাল আমদানির বরাত দেওয়া হয়েছে। ডাল ছাড়া টোম্যাটো, চিনি ও গমের দাম নিয়েও আজ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে রামবিলাস জানান, মরসুমি কারণেই টোম্যাটোর দাম বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হল, গম বা চালের মতো টোম্যাটো মজুত করে রাখা সম্ভব নয়। তাই দামও বাড়ছে।
কিন্তু সরকার মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম পরাতে না পারলে যে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের পক্ষে সুদের হার কমানোও সম্ভব নয়, তা-ও জেটলি বুঝতে পারছেন। কারণ সরকারই রঘুরাম রাজনের সামনে মূল্যবৃদ্ধির হার কমানোর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে। আজ এ বিষয়ে রাজনের পাশে দাঁড়িয়ে অরুণ শৌরি যুক্তি দিয়েছেন, ‘‘সবাই বলছে রাজন সুদের হার বাড়িয়ে রেখেছে। কিন্তু সরকারই তো আইন করে বলেছে যে সুদ নীতির লক্ষ্যই হবে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা। সেটাই হল সমস্যার মূল, রঘুরাম রাজন নন।’’