Advertisement
E-Paper

প্রয়াত মুফতি, মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন মেহবুবা

কেউ বলতেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বন্ধু। কেউ বলতেন কাশ্মীর রাজনীতিতে আবদুল্লা-রাজের প্রকৃত বিরোধী। উপত্যকায় শান্তি আনার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ নিয়ে অবশ্য সন্দেহ ছিল না কোনও পক্ষের। সেই ঐতিহ্যই উত্তরসূরির জন্য রেখে গেলেন মুফতি মহম্মদ সইদ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:১৯

কেউ বলতেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বন্ধু। কেউ বলতেন কাশ্মীর রাজনীতিতে আবদুল্লা-রাজের প্রকৃত বিরোধী। উপত্যকায় শান্তি আনার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ নিয়ে অবশ্য সন্দেহ ছিল না কোনও পক্ষের।

সেই ঐতিহ্যই উত্তরসূরির জন্য রেখে গেলেন মুফতি মহম্মদ সইদ। ঐতিহ্য রক্ষার ভার যে তাঁর মেয়ে মেহবুবা মুফতির হাতেই পড়তে চলেছে, তা কার্যত নিশ্চিত। রাজভবনে গিয়ে দলের পক্ষে মেহবুবাকে সমর্থনের কথা জানিয়ে এসেছেন পিডিপি নেতারা। বিজেপির পক্ষেও জানানো হয়েছে, তারা পিডিপির পাশেই রয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

২৪ ডিসেম্বর দিল্লির এইমস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। নিউমোনিয়া ও অন্য গুরুতর সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি। আজ এইমসেই মারা যান মুফতি।

প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর দেহ বিশেষ বিমানে শ্রীনগরে নিয়ে যাওয়া হয়। পালাম বিমানবন্দরে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুফতির দেহ নিয়ে শ্রীনগরে ফেরেন দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও গুলাম নবি আজাদ। পরে শ্রীনগরে শেষ যাত্রায় যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহও। প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর দেহ অনন্তনাগ জেলায় তাঁর গ্রাম বিজহেরায় রাষ্ট্রীয় সম্মানে সমাধিস্থ করা হয়েছে।


মুফতি মহম্মদ সইদের শেষ যাত্রায় শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে। ছবি: পিটিআই।

রাজনৈতিক জীবনে বহু বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন মুফতি। কংগ্রেস ছেড়ে পিডিপি গড়ার পরে জোট বেঁধেছেন বিজেপি ও কংগ্রেস, দুই শিবিরের সঙ্গেই। তবে মেয়ে রুবাইয়ার অপহরণ ঘিরে সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে বড় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মুফতি। প্রথম মুসলিম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মুফতি দায়িত্ব নেওয়ার কিছু দিন পরেই রুবাইয়াকে অপহরণ করে জঙ্গিরা। মুফতির চাপেই রুবাইয়ার বিনিময়ে পাঁচ জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বিরোধীরা। তখন থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে সন্দিহান হয়ে ওঠেন দিল্লির রাজনীতিকদের এক বড় অং‌শ। পিডিপি-র সংবিধানে কাশ্মীরের স্বশাসনের দাবি সেই সন্দেহ আরও বাড়়িয়েছিল।

কিন্তু মুফতির সমর্থকদের মতে, উপত্যকার রাজনীতিতে আবদুল্লা পরিবারের প্রকৃত বিকল্প হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছিলেন একমাত্র তিনিই। মেয়ে মেহবুবা রাজনীতিতে আসার পরে অবশ্য পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ ওঠে মুফতির বিরুদ্ধে। মুফতি শিবিরের দাবি, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাদ দিয়ে যে কাশ্মীর-সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় তা জানতেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী। তাই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ে ভোটে হিংসা কম হওয়ায় বিচ্ছিন্নতাবাদী, জঙ্গি এমনকী পাকিস্তানকে ধন্যবাদ দিতেও ঘাবড়াননি তিনি। যাতে প্রবল বেকায়দায় পড়েছিল পিডিপি-র বর্তমান জোটশরিক বিজেপি।

মুফতির ঐতিহ্য মেনে মেহবুবা দিল্লি-শ্রীনগরের জটিল সমীকরণ বাঁচিয়ে রাখতে পারেন কিনা, তা দেখতে উদগ্রীব ভূস্বর্গ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy