Advertisement
E-Paper

৫০ হাজারের ঝাঁঝে চোখে জল দোকানির

তাকে যে কাটতে যায়, তাকেই কাঁদিয়ে ছাড়ে সে। স্যালাড হোক বা সুস্বাদু মাংসের ঝোল। তার বিচরণ সর্বত্র। তাকে ছাড়া রোজের ঘরোয়া তরকারিও মুখে রোচে না এ দেশের আম আদমির। গোলাপি খোসার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই মহার্ঘ সব্জির ঝাঁঝে এখন চোখে জল অনন্ত নাইকেরও।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৪ অগস্ট ২০১৫ ০৩:২৭
অঙ্কন: সুমন চৌধুরী।

অঙ্কন: সুমন চৌধুরী।

তাকে যে কাটতে যায়, তাকেই কাঁদিয়ে ছাড়ে সে। স্যালাড হোক বা সুস্বাদু মাংসের ঝোল। তার বিচরণ সর্বত্র। তাকে ছাড়া রোজের ঘরোয়া তরকারিও মুখে রোচে না এ দেশের আম আদমির। গোলাপি খোসার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই মহার্ঘ সব্জির ঝাঁঝে এখন চোখে জল অনন্ত নাইকেরও।

পঞ্চান্ন বছরের অনন্ত পেশায় সব্জি বিক্রেতা। মুম্বইয়ের শহরতলি ওয়াডালার প্রতীক্ষানগরে দোকান রয়েছে তাঁর। শুক্রবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ দোকান বন্ধ করে বাড়ি গিয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়। অন্য সব্জির সঙ্গে তাঁর দোকানের ভিতর থরে থরে সাজানো ছিল পেঁয়াজের বস্তাও। আর সেটাই বোধহয় কাল হল। শনিবার সকালে দোকান খুলে মাথায় হাত ওই দোকানদারের। অনন্ত আবিষ্কার করেন, কম করে ৭০০ কেজি পেঁয়াজ উধাও তাঁর দোকান থেকে। যার এখনকার বাজার মূল্য প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা।

এত টাকার পেঁয়াজ খুইয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন অনন্ত নায়েক। ডেপুটি কমিশনার (গোয়েন্দা) ধনঞ্জয় কুলকার্নি আজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ওয়াডালা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে কে বা কারা এর পিছনে রয়েছে, তা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। অনন্ত এ-ও জানিয়েছেন, দোকানের অন্য সব্জি ছেড়ে বেছে বেছে পেঁয়াজের ১৪টা বস্তাই তুলে নিয়ে গিয়েছে চোরেরা।

আর তার কারণও অবশ্য খুব অজানা নয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সারা দেশে ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের দাম। মহারাষ্ট্রের লাসলগাঁওয়ে আজ সাতান্ন টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। কুইন্টাল প্রতি সেই অঙ্কটাই ৬ হাজার ৩২৬ টাকা। নাসিকের কাছে অবস্থিত লাসলগাঁওই এশিয়ার সর্ব বৃহৎ পেঁয়াজের পাইকারি বাজার। এলাকার কৃষি কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কালই সেখানে ৫ হাজার সাতশো টাকা কুইন্টাল দরে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। এক দিনের মধ্যে এক ধাক্কায় সেই দাম বেড়েছে অনেকটাই। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক দিনে দাম আরও বাড়বে বই কমবে না।

মহারাষ্ট্র অবশ্য একটা খণ্ডচিত্র মাত্র। সারা দেশেই গত কয়েক দিনে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। রাজধানী দিল্লিও তার ব্যতিক্রম নয়। আশি টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সেখানে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে খোদ কেজরীবাল সরকার। সহায়ক মূল্যের দোকানে আর সরকারি ভ্যানে বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। তবে অচিরেই দোকান থেকে খালি হয়ে যাচ্ছে পেঁয়াজের ভাণ্ডার। সব্জি মান্ডির সামনে বিশাল লাইন আজ সকাল থেকেই চোখে পড়েছে। বেশির ভাগে ক্রেতারই দাবি, তাঁরা দোকানে এসেও পেঁয়াজ পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় গোটা দিল্লিতে আরও দশটি সহায়ক মূল্যের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপ সরকার। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের আর্জি, দয়া করে একসঙ্গে এক কেজির বেশি পেঁয়াজ কেউ কিনবেন না। অযথা বিষয়টি নিয়ে হাহাকার করতেও বারণ করা হচ্ছে দিল্লিবাসীকে।

তবে সরকারের আর্জি খুব একটা কানে পৌঁছচ্ছে না দিল্লির আম জনতার। একাধিক বার এক এক জনকে পেঁয়াজের থলি হাতে দোকান বা ভ্যানের সামনে আকছার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী রাধা মোহন সিংহের দ্বারস্থ হয়েছেন দিল্লির খাদ্যমন্ত্রী আসিম আহমেদ খান। পেঁয়াজের দাম কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার যাতে কিছু করে, সেই আর্জি জানিয়েছেন আহমেদ খান। কেজরীবাল সরকার জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তিরিশ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ যাতে রাজধানীতে বিক্রি হয়, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গে এখনই এতটা গেল গেল রব ওঠেনি। কলকাতায় গত কয়েক দিনে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে দর বাড়লেও দিল্লির তুলনায় সেই দাম অনেকটাই কম। তবে কলকাতার কিছু অংশের ক্রেতারা আজই ৮০ টাকা কিলো দরে পেঁয়াজ কিনেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

হঠাৎ পেঁয়াজের দাম এত বাড়ল কী করে? বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ জানাচ্ছেন, দাম বাড়ার পিছনে রয়েছে খরিফ শস্যের কম ফলন। এ বার দেশের বেশির ভাগ জায়গায় অতিবৃষ্টি হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে এটাও ঘটনা যে, কিছু এলাকায় অনাবৃষ্টিতে খরিফ ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমুখী বাজার দর তারই ফল বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।

costlier onion 700kg onion mumbai veg dealer onion costlier onion theft valuable onion 50 thousand rupees onion
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy