বাঙালি পরিচারিকা মীনা হালদারকে কাজ থেকে তাড়িয়ে দিতে বলেছিলেন দিল্লির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মণীশ গুপ্ত। স্বামীর এ কথা শুনে আপত্তি জানিয়েছিলেন চিকিৎসক-পত্নী। বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কিও হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিশ। মীনাকে কেন কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে চাইছেন, চিকিৎসকের স্ত্রী সে কথাও জানতে চেয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, মীনা যে অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং দায়িত্বশীল স্বামীকে সে কথাও জানান মণীশের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে খবর, চিকিৎসকের স্ত্রী মণীশকে আরও বলেছিলেন যে, তাঁর মা ক্যানসারের আক্রান্ত হওয়ার পর মীনাই তাঁর দেখাশোনা করেছিলেন। তাঁর যাবতীয় কাজ তিনি একা হাতেই করতেন, সেটাও মনে রাখা জরুরি। মণীশ যখন মীনাকে তাড়াতে চাইছিলেন, স্ত্রী তাতে সায় না দিয়ে মীনার পাশে দাঁড়াচ্ছেন, এটা মেনে নিতে পারেননি চিকিৎসক মণীশ। তদন্তকারী সূত্রে খবর, এখান থেকেই চিকিৎসকের মনে সন্দেহ জাগে, পরিবারে তাঁর থেকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এক জন পরিচারিকাকে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, মীনাকে খুনের ঠিক আগেই চিকিৎসক দম্পতির মধ্যে তর্কাতর্কি হয় এই বিষয়টি নিয়ে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রতিবেশীরা চিকিৎসকের বাড়ির ছাদ থেকে মহিলার চিৎকার শুনতে পান। কিছু একটা হয়েছে আঁচ করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেখতে পায় পরিচারিকার দেহ পড়ে রয়েছে। পাশে বসে চিকিৎসক। মীনাকে ব্যাট দিয়ে পেটানোর পর ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
কিন্তু মীনাকে কেন খুন করলেন চিকিৎসক? কী এমন হল যে ১৫ বছর ধরে যে পরিচারিকা তাঁদের বাড়িতে কাজ করছিলেন, তাঁকে খুন করতে হল চিকিৎসককে? তদন্তের শুরুর দিকে ‘কালা জাদু’র একটি তত্ত্ব উঠে এসেছিল। চিকিৎসক সন্দেহ করতেন তাঁর পরিবারের ক্ষতি চাইছেন মীনা। তাই ‘কালা জাদু’ করছেন। কিন্তু ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হেমন্ত তিওয়ারি জানিয়েছেন, এ রকম কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে চিকিৎসকের পড়শি এবং পরিচিত কয়েক জনের দাবি, ঘটনার তিন চার দিন আগে থেকে চিকিৎসকের আচরণে কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছিলেন তাঁরা। মণীশের কয়েক জন রোগীও একই দাবি করেছেন। মণীশের ঘনিষ্ঠেরা জানিয়েছেন, মানসিক অবসাদের জন্য দীর্ঘ দিন ওষুধ খাচ্ছিলেন চিকিৎসক। দক্ষিণ দিল্লির মাউন্ট কৈলাসে স্ত্রী, ছেলেকে নিয়ে থাকেন চিকিৎসক। পড়শিরা জানিয়েছেন, চিকিৎসক অত্যন্ত মৃদু স্বভাবের। খুব কম কথা বলতেন। আর্থিক দিক থেকে দুর্বল এমন অনেক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবাও দিতেন। সেই চিকিৎসক কী ভাবে এ রকম হিংসাত্মক হয়ে উঠলেন, তা ভেবেই অবাক হচ্ছেন পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠেরা।