স্ত্রীকে ডাম্বল দিয়ে মারধরের পর শ্যালককে ফোন করেছিলেন জামাইবাবু। তাঁকে বলেন, ‘‘বাড়িতে এসে দিদির লাশ নিয়ে যা। পারলে আমার কথা রেকর্ড করে রাখিস।’’ দিল্লি পুলিশের সোয়াট কমান্ডো কাজল চৌধরির হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য প্রকাশ্যে এল। স্বামী অঙ্কুর চৌধরির বিরুদ্ধে তাঁকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতারও হয়েছেন তিনি।
কাজলের ভাই নিখিল জানিয়েছেন, দিদিকে যখন ফোন করেছিলেন তখন মারধরের আওয়াজ পান। চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলেন দিদির। তার পরই ফোনটা কেটে যায়। কিছু ক্ষণ পরেই জামাইবাবুর কাছ থেকে ফোন আসে। ফোন ধরতেই তিনি বলেন, ‘‘ওকে মেরে ফেলেছি। এসে লাশ নিয়ে যা।’’ এই কথা শোনার পরই দ্বারকা মোড়ে দিদির বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন নিখিলেরা। গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন কাজল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কাজলকে ডাম্বল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে স্নাতক পাশ করেন কাজল। সেই সময়েই অঙ্কুর চৌধরির সঙ্গে পরিচয়। তার পর প্রেম। ২০২২ সালেই দিল্লি পুলিশে চাকরি পান কাজল। নিজের যোগ্যতায় পুলিশের স্পেশাল সেল সোয়াট শাখার কমান্ডো হন। ২০২৩ সালে বিয়ে করেন কাজল। নিখিলের অভিযোগ, বিয়ের ১৫ দিন পর থেকেই পণের জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ধীরে ধীরে সেই অত্যাচার মানসিক থেকে শারীরিক পর্যায়ে পৌঁছোয়। অনেক বার সমস্যা মেটানোর চেষ্টাও হয়েছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। ২০২৪ সাল থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন কাজল। সেখানে গিয়েও স্বামী অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগ। ২২ জানুয়ারি রাতে কাজলকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তার পর ২৭ জানুয়ারি মৃত্যু হয় তাঁর।