রাত পোহালে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটপর্ব। সে দিকে রাজ্যবাসী তথা ভারতের রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সতর্ক নজর রাখছে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত সরকারও। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ফলাফল কী হতে চলেছে তা নিয়ে ঢাকার খুব মাথাব্যথা আছে এমন নয়। বরং ভোটের পরিণাম সীমান্তবর্তী এলাকায় কী ভাবে পড়ে ও পশ্চিমবঙ্গের নয়া সরকার আন্তঃসীমান্ত নদীগুলি নিয়ে কোন ভূমিকায় আসরে নামে, তার সঙ্গে তাদের স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, দু’টি দেশের মধ্যে বয়ে যাওয়া নদী এবং অনুপ্রবেশের বয়ানের মতো বিভিন্ন কারণে ঢাকার কাছে পশ্চিমবঙ্গের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট।
সবচেয়ে আগে যা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ, তা হল জলবণ্টন। তিস্তা চুক্তি রূপায়ণ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তিতে ঝুলে রয়েছে ২০১১ সাল থেকে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলির ‘লাইফলাইন’ হল তিস্তা, এমনটাই সে দেশের সরকারের বক্তব্য। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের পরে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘আন্তরিক সম্পর্কের’ ভাষ্য তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তাতে তিস্তার জল বয়নি! এ বারে নতুন সরকার এলে তিস্তা নিয়ে নতুন কোনও পদক্ষেপ সম্ভব হয় কি না, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে ঢাকা।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রশ্নেও পশ্চিমবঙ্গ একটি বড় ভূমিকায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের ভাগ করে নেওয়া সীমান্ত রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতরও বটে। অনুপ্রবেশ, কাঁটাতারের বেড়া, চোরাচালানের মতো বিষয়গুলি ভোট-ভাষ্যে নানা ভাবে উঠে এসেছে। উঠেছে অনুপ্রবেশের বিষয়টিও। যা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতের বাইরেও কূটনৈতিক বয়ান তৈরি করছে। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক প্রচারে ভাষার ব্যবহার থেকে বাংলাদেশের জনতার মধ্যে ভারত-বিরোধিতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা এবং আশঙ্কা নয়াদিল্লি ও ঢাকা দু’তরফেই রয়েছে। দীর্ঘদিন হাসিনা সরকার থাকায় একটা দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক স্থিতাবস্থা ছিল। কিন্তু বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের দরজা সবে খুলছে। এই পরিস্থিতিতে সেটা আবার লাইনচ্যুত যাতে না হয়, তা নিয়ে ভারতের মতো বাংলাদেশেরও যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এই প্রসঙ্গে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)