বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নীতীশ কুমার। মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন তিনি। তার পরেই লোকভবনে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন রাজ্যপালের কাছে। তার পরেই ঘোষণা হয়ে গেল বিহারের পরের মুখ্যমন্ত্রীর নামও। বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন সম্রাট চৌধরি। আগের মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন নীতীশের ‘ডেপুটি’। বিহারে প্রথম বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলেন।
গত কয়েক বছর ধরেই শারীরিক ভাবে অসুস্থ নীতীশ। যে কারণে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার মাস ছয়েকের মধ্যে সেই দায়িত্ব থেকে সরে আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি। জানান, তিনি রাজ্যসভায় যেতে চান। গত ৫ মার্চ নিজেই প্রথমে সমাজমাধ্যমে তাঁর আগামী রাজনৈতিক জীবনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন নীতীশ। গত ১০ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে শপথগ্রহণ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
জেডিইউ নেতৃত্বের দাবি, নীতীশ মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকুন বা না থাকুন বিহারের অগ্রগতির প্রতি তিনি সবসময়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জেডিইউ-র কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয়কুমার ঝা বলেন, ‘‘বিহারের ক্ষেত্রে আমরা এনডিএ-র সমর্থনে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে গত বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। নতুন সরকার নীতীশজির নীতিগুলি অব্যাহত রাখবে। তাঁর নির্দেশনায় কাজ করবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী না থাকলেও, তাঁর মনোযোগ বিহারেই থাকবে। সংসদের অধিবেশনের জন্য শুধু দিল্লি যাবেন।’’
নীতীশ ইস্তফা দেওয়ার পর তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিহারের শাসকজোটের বৃহত্তম শরিক বিজেপির তরফেই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে, তা একপ্রকার স্থির হয়েই গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়েছিলেন সম্রাট। শেষ পর্যন্ত তাঁর নামেই সিলমোহর পড়ল। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে পারেন তিনি। উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমার।
নীতীশ রাজনৈতিক জীবনের শুরু করেছিলেন বিহার বিধানসভার বিধায়ক হিসাবে। তার পরে লোকসভার সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব। পরবর্তী ধাপে দীর্ঘ দু’দশক ধরে বিহার বিধানসভায় থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মঙ্গলবার সেই পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নীতীশ।