রাশিয়া এবং আমেরিকা— দুই দেশের থেকেই তেল আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে চলেছে ভারত। সম্প্রতি গত নভেম্বরে ভারতে জ্বালানি তেল আমদানির পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া থেকে যেমন তেল আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই বৃদ্ধি পেয়েছে আমেরিকা থেকে আমদানিও।
নভেম্বরে রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করেছে ভারত, তা গত ছ’মাসের (নভেম্বর পর্যন্ত) হিসাবে সর্বাধিক। একই সঙ্গে আমেরিকা থেকে তেল আমদানিও গত সাত মাসের মধ্যে সর্বাধিক। গত নভেম্বরে ভারত যে পরিমাণ তেল আমদানি করেছে, তার ৩৫ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। ওই মাসে আমেরিকা থেকেও তেল আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। বিশ্বের দুই শক্তিধর রাষ্ট্রের কাছ থেকেই জ্বালানি আমদানির পরিমাণ নভেম্বরে বৃদ্ধি করেছে ভারত। যদিও রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার হার আমেরিকার তুলনায় অনেকটাই বেশি। তবে ভারতের মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় অর্ধেকই এসেছে এই দুই দেশের থেকে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানাচ্ছে, গত নভেম্বরে রাশিয়া থেকে ৭৭ লক্ষ টন তেল আমদানি করেছে ভারত। যা ওই মাসে দেশের মোট তেল আমদানির ৩৫.১ শতাংশ। গত ছ’মাসে রাশিয়া থেকে এত পরিমাণে তেল আমদানি করেনি ভারত। এমনকি ২০২৪ সালের নভেম্বরের তুলনায়ও রাশিয়া থেকে এই আমদানির হার ৭ শতাংশ বেশি। ওই মাসে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ভারত খরচ করেছে ৩৭০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩৩,৪০৯ কোটি টাকা)। ওই মাসে তেল আমদানির জন্য ভারত যত খরচ করেছে, তার ৩৪ শতাংশই ব্যয় হয়েছে মস্কো থেকে তেল কেনার জন্য।
আরও পড়ুন:
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনায় ভারতের উপরে আগে থেকেই অসন্তুষ্ট আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখায় ভারতের উপরে অতিরিক্ত শুল্কও চাপিয়েছেন তিনি। তা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন বাণিজ্যচুক্তিও এখনও ঝুলেই রয়েছে। এরই মধ্যে ভারতের উপরে আরও শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। ঘটনাচক্রে, এমন এক কূটনৈতিক টানাপড়েনের মাঝেই দিল্লির তেল আমদানি সংক্রান্ত নয়া তথ্য প্রকাশ্যে এল।
গত বছরের অগস্টে ভারতের উপরে ওই শুল্ক চাপান ট্রাম্প। তার পর থেকে, গত আট মাসের মধ্যে সাত মাসেই দেখা গিয়েছে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি ২০২৪ সালের ওই মাসের তুলনায় কমেছে। তবে নভেম্বরের হিসাবে দেখা গেল, ২০২৪ সালের নভেম্বরের তুলনায় আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য দিকে, আমেরিকার থেকেও তেল আমদানি বৃদ্ধি করেছে ভারত। গত নভেম্বরে আমেরিকা থেকে প্রায় ২৮ লক্ষ টন তেল ভারতে এসেছে। আমেরিকা থেকে তেল কেনার জন্য ওই মাসে ভারত খরচ করেছে ১৪০ কোটি ডলার।
নভেম্বরে আমেরিকা থেকে ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১২.৬ শতাংশ। আপাত দৃষ্টিতে এই আমদানির পরিমাণ রাশিয়া থেকে অনেকটা কম দেখালেও, গত মাসের তুলনায় আমেরিকা থেকে তেল আমদানি এক লাফে অনেকটা বৃদ্ধি করেছে ভারত। গত অক্টোবরে আমেরিকা থেকে মাত্র ৪.২ শতাংশ তেল কিনেছিল দিল্লি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আমেরিকা থেকে ভারতের তেল আমদানির হার ছিল ৫.১ শতাংশ। উভয় ক্ষেত্রেই আমেরিকার থেকে তেল আমদানি দ্বিগুণ করেছে ভারত।