Advertisement
E-Paper

‘খুব তাড়াতাড়ি’ ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত আমেরিকার, ট্রাম্প বললেন, মোদী জানতেন আমি খুশি নই!

রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার জন্য শাস্তি হিসেবে ভারতের উপরে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ দেশের পণ্যের উপর এখন তাদের মোট শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৩
(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ভারতের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে নয়াদিল্লি। বিষয়টি নিয়ে তিনি যে ক্ষুব্ধ, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর ক্ষোভের কারণ জানতেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

রবিবার প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সওয়ার হয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ওরা (ভারত) বাণিজ্য (রাশিয়ার সঙ্গে) বাণিজ্য করছে। আমরা ওদের উপর খুব তাড়াতাড়ি আরও বেশি শুল্ক চাপাতে পারি।” আরও এক বার মোদীর প্রশংসাও শোনা গিয়েছে ট্রাম্পের মুখে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এক জন খুব ভাল মানুষ। উনি দারুণ মানুষ। কিন্তু উনিও জানতেন, আমি খুশি নই। আমাকে খুশি রাখা জরুরি ছিল।”

ট্রাম্প ‘অখুশি’ থাকার কারণ সবিস্তার ব্যাখ্যা না-করলেও মনে করা হচ্ছে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত সুনজরে দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত অক্টোবর মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন মোদী। যদিও ভারতের তরফে সেই সময় স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি মোদীর।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার জন্য শাস্তি হিসেবে ভারতের উপরে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে এ দেশের পণ্যের তাদের মোট শুল্ক ৫০ শতাংশ। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার চাপ রয়েছে নয়াদিল্লির উপর। তা ছাড়া রাশিয়ার দুই তেল সংস্থা রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে নয়াদিল্লি অবশ্য বার বারই জানিয়ে এসেছে, দেশের উপভোক্তাদের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। কোন দেশ থেকে কতটা সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, মাথায় রাখা হবে সেটাও। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই মস্কোর তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। সেই সময় তেল বিক্রি অব্যাহত রাখতে মোটা টাকা ছাড় দেওয়া ঘোষণা করে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন। ভারতও তেল কেনার বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরতা খানিক কমিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ ক্রমশ বাড়াতে থাকে। চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক। ট্রাম্পের দাবি, শুল্কবাণের পরেও এই রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ খুব বেশি কমায়নি ভারত।

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে তেল বিক্রির টাকা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে রাশিয়া। বিশ্বে বহু যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করলেও এখনও পর্যন্ত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারেননি ট্রাম্প। তাই পুতিনের দেশকে ‘ভাতে মেরে’ আলোচনার টেবিলে বসাতে চায় হোয়াইট হাউস। তবে পুতিনের দেশের উপর এখনও পর্যন্ত কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেনি আমেরিকা। গত ডিসেম্বরে ভারতে এসেছিলেন পুতিন। সেই সময় রুশ প্রেসিডেন্টের বার্তা ছিল, আমেরিকা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনে। তা হলে কেন ভারতের সেই অধিকার থাকবে না? এ নিয়ে তাঁরা ট্রাম্পের সঙ্গেও কথা বলতে রাজি বলে জানিয়েছিলেন পুতিন।

Donald Trump Narendra Modi Russian Oil
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy