শিয়ালদহ, হাওড়ার পরে হকার উচ্ছেদ অভিযানের সাক্ষী থেকেছে দমদম জংশন। সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযানের সাক্ষী থাকা এই তিনটি বড় স্টেশনই ভারতীয় রেলের অমৃত ভারত স্টেশন যোজনায় রয়েছে। ওই যোজনার স্টেশনগুলি আকর্ষণীয় ভাবে গড়ে তুলে স্টেশন চত্বরকে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের লক্ষ্য নিয়েছে রেল। সেই কারণেই ওই হকারউচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে সরব য়েছেন বিরোধীরা।
নতুন সরকার আসার এক মাসের মধ্যে গরিব মানুষের রুটি-রুজি ছিনিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ রেল ও বিজেপির বিরুদ্ধে উঠেছে, তাতে শাসক শিবির শুধু অস্বস্তিতে নয়, দ্বিধাবিভক্তও। শাসক শিবিরের একাংশ তাড়াহুড়ো করেউচ্ছেদের বিরোধী।
সম্প্রতি কেবল পশ্চিমবঙ্গে নয়, মুম্বইয়ের বান্দ্রা, রাজস্থানের জয়পুর, মধ্যপ্রদেশের রতলামের মতো একাধিক স্টেশনে হকার উচ্ছেদ ও রেলের বৈধ জমি উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে রেল। রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, অমৃত ভারত যোজনায় থাকা স্টেশনগুলিকে আধুনিক ভাবে গড়ে তোলা হবে। যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে স্টেশনগুলিতে থাকবে চলমান সিঁড়ি, লিফ্ট, আধুনিক মানের প্রতীক্ষালয়, রেস্তরাঁ, কেনাকাটার জন্য ব্র্যান্ডেড দোকান। কিন্তু প্রশ্ন হল, রেলের ভাঁড়ারে অর্থ নেই। তা হলে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই যে ৯৫টি অমৃত ভারত স্টেশন বানানো হবে, সেই পরিকাঠামোগত খরচ কে দেবে?
বিরোধীদের কথায়, যে ভাবে দেশের সমস্ত বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, এ ক্ষেত্রেও দরপত্র ডেকে রেলের এই স্টেশনগুলি আধুনিকীকরণের জন্য তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থার হাতে। বড় অঙ্কের অর্থ ঢুকবে রেলের ঘরে। অন্য দিকে বেসরকারি সংস্থাগুলি আধুনিকীকরণ খাতে বিনিয়োগের বিনিময়ে স্টেশন ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাণিজ্যিকীকরণ করে তা থেকে বিনিয়োগের অর্থ উঠিয়ে নেবে। বিরোধীদের অভিযোগ, এর ফলে আগামী দিনে বিমানবন্দরের মতো স্টেশনেও অধিক অর্থ দিয়ে এক কাপ চা বা খাবার কিনতে হবে যাত্রীদের।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে থাকায় এ যাবৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনকে পাশে পায়নি রেল। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তন হতেই নিজেদের জমি উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে তারা। উত্তর ২৪ পরগনার আরও বেশ কিছু স্টেশনে অবৈধ দোকানঘর ভাঙা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দমদমের পরে ফের হকার উচ্ছেদ হলে হিতে বিপরীত হতে পারে বুঝে কোনও ভাবে ওই অভিযান থামানো হয়। গোটা বিষয়টিতে মতপার্থক্য রয়েছে রাজ্য বিজেপির মধ্যে।
একাংশের বক্তব্য, যাত্রী পরিষেবা ও নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অন্য অংশের মতে, রেল আরও সময় দিয়ে উচ্ছেদ করতে পারত। আরও মানবিক ভাবে বিষয়টি দেখা উচিত ছিল। আজ দিল্লিতে রেলের উচ্ছেদ নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য না করলেও ধর্মতলাকে হকারমুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)