পানীয় জল নিয়ে এ বার উদ্বেগ ছড়াল হরিয়ানায়। সেখানে পালওয়াল জেলার ছায়ানসা গ্রামে একের পর এক মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, গত ১৫ দিনে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচ স্কুলপড়ুয়াও রয়েছে। যদিও সরকারি হিসাবে দু’সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের।
কী কারণে একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। এলাকাবাসীদের একাংশের দাবি, দূষিত পানীয় জল থেকেই এই ঘটনাগুলি ঘটছে। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে পিটিআই জানাচ্ছে, দূষিত পানীয় জলের বিষয়টি একবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হচ্ছে খাবারে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও। আপাতত সব দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে হরিয়ানার স্বাস্থ্য দফতর।
সরকারি হিসাবে যে সাত জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে চার জনই হেপাটাইটিস বি-এর কারণে মারা গিয়েছেন। বাকি তিন জনের মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয় প্রশাসনের কাছে। বাকিদের কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন আধিকারিকেরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গ্রামের অনেকেই জ্বরে ভুগছেন। কারও কাশি, বমি, গা ব্যথার মতো উপসর্গও রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের একটি দল বর্তমানে ওই গ্রামেই রয়েছে। আধিকারিক সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, গ্রামের প্রায় ৪০০ জনের শরীরে একই ধরনের কিছু উপসর্গ দেখা গিয়েছে। অসুস্থদের রক্তের নমুনা এবং অন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বস্তুত, ছায়ানসা গ্রামে প্রায় ৫০০০ মানুষের বাস। এই গ্রামের বাসিন্দারা পানীয় জলের জন্য নির্দিষ্ট কোনও একটি উৎসের উপরে নির্ভরশীল নন। এখানে পুরসভার জল যেমন সরবরাহ করা হয়, তেমনই বাড়িতে ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কে জল মজুত রাখার চলও রয়েছে। বাইরে থেকে আসা ট্যাঙ্কার থেকেও জল নেন অনেকে। বাড়িগুলিতে যে ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কের জল ব্যবহার হয়, সেই ট্যাঙ্কের জল প্রতিদিন পাল্টানো হয় না। ফলে কী থেকে এই সমস্যার সূত্রপাত, তা এখনই নির্দিষ্ট ভাবে বলতে পারছেন না আধিকারিকেরা।
হরিয়ানার স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক সূত্রে ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ঘটনা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩০০টিরও বেশি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে মাত্র দু’টিতে হেপাটাইটিস বি অথবা সি পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন বাড়িতে ব্যবহৃত পানীয় জলের নমুনাও পরীক্ষা করা হয়েছে। ১০৭টি পরিবারের মধ্যে ২৩টি পরিবারের পানীয় জল গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। সেগুলিতে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি হতে দেখা গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অসুস্থতার সঙ্গে এই পানীয় জলের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না আধিকারিকেরা।