E-Paper

প্রশ্ন ফাঁসে সিবিআইয়ের নজরে বাবা-মায়েরাও

তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে বড় ভূমিকা নিচ্ছেন পরীক্ষার্থীদের বাবা-মায়েরাও। ছেলে-মেয়েদের হাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র তুলে দিতে ১০-২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পিছপা হচ্ছেন না তাঁরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৯:১০

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ছেলে-মেয়েদের জন্য ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কিনতে পিছপা হচ্ছেন না সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা বা নিট পরীক্ষার্থীর বাবা-মায়েরা। প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগসাজশ খতিয়ে দেখতে এ বার ওই বাবা-মায়েদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সিবিআই। পাশাপাশি, আগামী মাসে নিট যাতে নির্বিঘ্নে হয় তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রকের কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে বড় ভূমিকা নিচ্ছেন পরীক্ষার্থীদের বাবা-মায়েরাও। ছেলে-মেয়েদের হাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র তুলে দিতে ১০-২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পিছপা হচ্ছেন না তাঁরা। পরবর্তী ধাপে তাঁরাই আবার প্রশ্নপত্র কেনার টাকা ওঠাতে কম দামে একাধিক ব্যক্তিকে সেই প্রশ্নপত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন। তদন্তকারী অফিসারদের ব্যাখ্যা, সন্তানদের বিপথে ঠেলে দিতে বাবা-মায়েরা উল্লেখজনক ভূমিকা নিচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ডাক্তার, শিল্পপতিদের মতো অতি ধনী পরিবারের বাবা-মায়েরাই এ ভাবে প্রশ্নপত্র কিনে সন্তানদের ডাক্তারিতে ভর্তি নিশ্চিতকরতে চাইছেন।

গোয়েন্দাদের মতে, প্রশ্ন ফাঁস চক্রের একেবারে বহিঃস্তরে রয়েছে এই বাবা-মায়েরা, যাঁরা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের জন্য যে কোনও মূল্য ধরে দিতে রাজি আছেন। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, মূলত এঁরাই কালোবাজারে ফি বছর প্রশ্নপত্রের চাহিদা সৃষ্টি করে চলেছেন। গোয়েন্দাদের মতে, বেশ কিছু পরীক্ষার্থীর বাবা-মায়ের সঙ্গে কোচিং কেন্দ্রের যোগাযোগ থাকার বিষয়টি সামনে আসায় গত কাল থেকেই মহারাষ্ট্রের লাতুর ও নানদেড়ের জনা পঁচিশেক বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সিবিআই। মোবাইল, ল্যাপটপ-সহ ধৃতদের সব বৈদ্যুতিক গ্যাজেট এবং কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই। ওই বাবা-মায়েদের সঙ্গে বিভিন্ন কোচিং কেন্দ্রের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রের মতে, তদন্তে দেখা গিয়েছে বেশ কিছু পরিবার যে টাকা দিয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কিনেছিলেন, অন্যদের কাছে প্রায় সেই দামেই তা বিক্রি করে কিছু টাকা তুলে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। যেমন রাজস্থানের বিওয়াল পরিবার প্রায় ২৫ লক্ষ টাকায় প্রশ্ন কিনে তা সীকরের একাধিক কোচিং কেন্দ্রকে বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল। কোন কোন কোচিং কেন্দ্রগুলি ওই প্রশ্ন কিনেছিল, তা তদন্তসাপেক্ষ। পাশাপাশি কিছু কোচিং কেন্দ্র আবার এ বারের পরীক্ষার পরেই তাদের কেন্দ্র থেকে একাধিক পরীক্ষার্থী ভাল ফল করতে চলেছে বলে দাবি করে পোস্টার দিয়েছিল। কিসের ভিত্তিতে ওই দাবি করেছিল তারা, খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

আগামী ২১ জুন বাতিল হওয়া নিট আবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয়, তার জন্য আজ শিক্ষা মন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন পরীক্ষা যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়, তা নিশ্চিত করতে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। প্রশ্ন ফাঁস রোখাএবং গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থা মসৃণ করার জন্য দেশের প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে মন্ত্রকের কর্তাদের নিয়মিত ভিত্তিতে পর্যালোচনা বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

CBI NEET

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy