কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জিরামজি’ আইনের নির্দিষ্ট কিছু ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে এ বার মামলা হল মাদ্রাজ হাই কোর্টে। ওই আইনের আটটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি মণীন্দ্রমোহন শ্রীবাস্তবের বেঞ্চে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
১০০ দিনের কাজের মেয়াদবৃদ্ধি করে এবং প্রকল্পের নামবদল করে কেন্দ্র চালু করেছে ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন’ (যা সংক্ষেপে ভিবি-জিরামজি, বা জিরামজি নামেই পরিচিত)। এত দিন গ্রামীণ কর্মসংস্থানের জন্য যে মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপাওয়ারমেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫ (মনরেগা) চালু ছিল, তার পরিবর্তে এই নতুন আইন নিয়ে আসা হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতিক্রমে ‘জিরামজি’ আইনে পরিণত হয়।
ওই আইনের নির্দিষ্ট কিছু ধারাকে চ্যালে়ঞ্জ করে সম্প্রতি হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন চেন্নাইয়ের আইনজীবী টি শিবজ্ঞানসম্বন্দন। মামলাকারীর অভিযোগ, নতুন আইনে কিছু ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মনরেগায় কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির মধ্যে ৯০:১০ অনুপাতে খরচ ভাগাভাগি হত। এর ফলে রাজ্য সরকারগুলির উপর আর্থিক বোঝা পড়ত না। কিন্তু নতুন আইনে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যের ক্ষেত্রে পুরানো অনুপাত মানা হয়েছে। অন্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এই ব্যয়ের অনুপাত করে দেওয়া হয়েছে ৬০:৪০। কেন এই বৈষম্য, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী। এ ছাড়া ওই আইনের আরও বিভিন্ন ধারার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বস্তুত, তামিলনাড়ুর সরকার ইতিমধ্যে ‘জিরামজি’ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সে রাজ্যের বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করিয়েছে। তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন শুরু থেকেই এই প্রকল্পের নাম বদলের বিরোধিতা করে আসছিলেন। ডিএমকে-র অভিযোগ, সুকৌশলে মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে ফেলা হয়েছে ওই প্রকল্পের থেকে। এ বার সেই তামিলনাড়ুতেই ‘জিরামজি’ আইনের কিছু ধারার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।