বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগস্টে ক্ষমতার পালাবদলের পর সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কতগুলি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করল নয়াদিল্লি। সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির রিপোর্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উল্লেখ করে বলেছে, গত দেড় বছরে বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘুদের (খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি) বিরুদ্ধে প্রায় ৩১০০টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে।
রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের লিখিত জবাবে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাগুলি—যার মধ্যে তাঁদের বাড়ি, সম্পত্তি, ব্যবসা ও উপাসনালয়ের উপর আক্রমণও রয়েছে, ভারত সরকার নিয়মিত ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩১০০টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে।” প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পরে বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। তার এক মাসের মাথায় প্রকাশ্যেএল এই রিপোর্ট।
আরও পড়ুন:
চলতি বছরের গত ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা এবং তাদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার একটি অস্বস্তিকর ‘প্যাটার্ন’ লক্ষ করা যাচ্ছে। দৃঢ় ভাবে এর মোকাবিলা করা প্রয়োজন। এর পরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একটি রিপোর্ট পেশ করে জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সংক্রান্ত মোট ৬৪৫টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে ৭১টি ঘটনাকে ‘সাম্প্রদায়িক’ হিসাবে চিহ্নিত করা গিয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনার চরিত্র অসাম্প্রদায়িক এবং সাধারণ অপরাধমূলক। এই ৭১টি সাম্প্রদায়িক অপরাধের ক্ষেত্রে ৫০টিতে পুলিশের খাতায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সমসংখ্যক গ্রেফতারিও হয়েছে। এ ছাড়া ২১টি ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। সংখ্যালঘুরা জড়িয়ে রয়েছেন, এমন বাকি ৫৭৪টি ঘটনার সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে ইউনূসের দফতর। এগুলির নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক গোলমাল, পারিবারিক অশান্তি, জমি সংক্রান্ত বিবাদ, চুরি বা ধর্ষণের মতো অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে ৩৯০টি মামলা রুজু হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৪টি। মোট গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৯৮ জনকে। এ ছাড়াও আরও ৩০টি ঘটনায় বাড়তি পদক্ষেপ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
আরও পড়ুন:
কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির থেকে পাওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে মোদী সরকারের পেশ করা রিপোর্ট জানাচ্ছে, ‘সাম্প্রদায়িক চরিত্র’ রয়েছে এমন সংখ্যালঘু-বিরোধী অপরাধ সংখ্যায় ঢাকার রিপোর্টের তুলনায় অনেকটাই বেশি। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জনগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৭.৯৫ শতাংশ হিন্দু, ০.৬১ শতাংশ বৌদ্ধ এবং ০.১২ শতাংশ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলির বিভিন্ন সংগঠনও একাধিক বার সেই অভিযোগ তুলেছে গত দেড় বছরে।