গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনার চার দিন পর গ্রেফতার হলেন উত্তরপ্রদেশের কানপুরের তামাক সংস্থার কর্ণধার কেকে মিশ্রের পুত্র শিবম মিশ্র। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে একটি হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার বিকেলে কানপুরের ভিআইপি রোডে ল্যাম্বরগিনি চালাচ্ছিলেন শিবম। বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারীদের ধাক্কা মারেন তিনি। সেই ঘটনায় ছ’জন আহত হন। এই ঘটনার পরই এক ই-রিকশাচালক মহম্মদ তৌফিক শিবমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরই তামাক কর্ণধারের পুত্রকে গ্রেফতারের তোড়জোড় শুরু হয়। ঘটনার পর থেকে ‘পলাতক’ ছিলেন অভিযুক্ত।
তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শিবমকে যখন গ্রেফতারের তোড়জোড় শুরু হয়েছে, শিবমের আইনজীবী দাবি করেন, গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন না শিবম। এই নিয়ে একটা টানাপড়েন শুরু হয়। তার মধ্যেই বুধবার কানপুর আদালতে এক ব্যক্তি হাজির হয়ে দাবি করেন, তিনিই ল্যাম্বরগিনি চালাচ্ছিলেন। চালকের আসনে শিবম ছিলেন না। নিজেকে মোহন বলে পরিচয়ও দেন ওই ব্যক্তি। আদালতে মোহন দাবি করেন, গাড়ির ভিতরে শিবম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ফলে এই পরিস্থিতি দেখে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তাঁর দাবি, ‘‘দুর্ঘটনা যখন ঘটে, সেই সময় ল্যাম্বরগিনি চালাচ্ছিলাম আমিই। হঠাৎ শিবম অসুস্থ হয়ে আমার কোলে ঢলে পড়েছিলেন। ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এক হাতে ওঁকে সামলানোর চেষ্টা করছিলাম। অন্য হাতে স্টিয়ারিং ছিল। গাড়িটি তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।’’ মোহন আরও দাবি করেন, দুর্ঘটনার পর গাড়ির দরজা খুলছিল না। তখন শিবমকে চালকের আসনের দিকে দরজা দিয়ে বার করার চেষ্টা করেন তিনি। তার জন্য শিবমকে চালকের আসনে বসাতে হয়েছিল।
তবে পুলিশ আদালতে দাবি করে, গাড়ি চালাচ্ছিলেন শিবমই। প্রাথমিক তদন্তে সেটাই উঠে এসেছে বলেও দাবি পুলিশের। ভিডিয়ো-সহ আদালতে তথ্যপ্রমাণও পেশ করে পুলিশ। সব তথ্য খতিয়ে দেখার পর এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয় পুলিশকে। সেই সঙ্গে মোহনের আত্মসমর্পণের বিষয়টিও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ঘটনার পর থেকেই শিবমের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে এই প্রথম নয়, পিতা-পুত্র এর আগেও শিরোনামে এসেছিলেন। তাঁদের দফতর, বাড়িতে হানা দিয়ে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছিলেন আয়কর দফতরের কর্তারা। প্রকাশ্যে এসেছিল শিবমের বিলাসবহুল জীবনযাপন। শিবমের বাবা বংশীধর টোবাকো প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক। দেশের নামী পানমশলা সংস্থাগুলিকে তামাক সরবরাহ করে শিবমদের সংস্থা। ২০২৪ সালে এই সংস্থার দফতর, কর্তাদের বাড়ি মিলিয়ে ২০টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল আয়কর দফতরের আধিকারিকদের ২০টি দল। দিল্লি, কানপুর, মুম্বই, গুজরাত মিলিয়ে চলেছিল অভিযান। আয়কর দফতরের রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছিল, সংস্থা তাদের বার্ষিক আয় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা বলে ঘোষণা করেছিল। যদিও অনুসন্ধান করে দেখা গিয়েছিল সংস্থার বার্ষিক আয়ের পরিমাণ প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা। সংস্থার বিরুদ্ধে আয়কর এবং জিএসটি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল।