স্কুলে যাওয়ার আগে কিংবা নৈশাহারের সময়, খাওয়ার টেবিলে তুলকালাম কাণ্ড বহু বাড়িতেই ঘটে। কারণ আর কিছুই না, খাবারের প্রতি সন্তানের অনীহা। কেউ বকাঝকা করেন খুদেকে, কেউ আবার গল্পের ছলে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। শিশুর খেতে না চাওয়ার বিষয়টি কিন্তু কখনও কখনও তার শরীর ঠিক না থাকারও ইঙ্গিত হতে পারে। শিশুদের জিভে অনেক সময় সাদা আস্তরণ পড়তে দেখা যায়, সেই কারণেও শিশুর খাওয়ার ইচ্ছে চলে যেতে পারে। চিকিৎসার পরিভাষায় একে বলে ওরাল থ্রাশ। জেনে নিন কী এই সমস্যা।
শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই অনেক সময় তাদের শরীরে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়। ওরাল থ্রাশের পিছনে ছত্রাকের সংক্রমণ একটা বড় কারণ। সর্দি-কাশি, জ্বর বা ভাইরাল সংক্রমণের পরেও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তখনও ওরাল থ্রাশের ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের মুখের ভিতরের যত্ন ঠিকঠাক নেওয়া না বলেও ওরাল থ্রাশ হতে পারে।
কী করে বুঝবেন শিশুর ওরাল থ্রাশ হয়েছে?
যে সব শিশু স্তন্যপান করে বা যারা বোতলে দুধ খায়, তারা অনেক সময় বোতলের নিপ্ল জিভ দিয়ে ঠেলে বাইরে বার করে দিতে চায়। জিভে জ্বালা হওয়ার কারণেই তারা এমন আচরণ করে। এই সময় তাদের খেতে গেলে জিভে লাগে, আবার খাওয়া ঠিকঠাক হয় না বলে পেটও ভর্তি হয় না। ফলে সারা ক্ষণ তারা ঘ্যানঘ্যান করে। এই সমস্যার পিছনে ওরাল থ্রাশ একটা বড় কারণ হতে পারে। তাই সেই সময়ে শিশুদের জিভ একটু ভাল ভাবে খেয়াল করতে হবে। সাদা আস্তরণ পরতে দেখলেই সতর্ক হতে হবে। বড় বাচ্চাদের এই সমস্যা হলে তারা তাদের পছন্দের খাবারও মুখে তুলতে চায় না।
কী করণীয়?
এই সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল লোশন জিভে লাগানো যেতে পারে।
কী ভাবে যত্ন নেবেন?
শিশুর বয়স ছ’মাসের নীচে হলে ভিজে সুতির কাপড় আঙুলে জড়িয়ে দিনে দু’বার মুখের ভিতরটা পরিষ্কার করতে হবে। ছ’মাসের উপরের শিশুদের জন্য ফিঙ্গার ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। শিশুর দাঁত বেরোতে শুরু করলেই পেস্ট ব্যবহার শুরু করতে হবে। শিশুদের জন্য বিশেষ পেস্ট ব্যবহার করতে হবে। ১ বছরের পর শিশুদের মুখের যত্ন নিতে দিনে দু’বেলা ব্রাশ করতে হবে।