অফিসে কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ ক্ষণ বসে কাজ। তার পর হাতে মোবাইল ধরে রেখে লম্বা সময় ঘাঁটাঘাঁটি তো আছেই। ঘরের কাজও কম নয়। সব মিলিয়ে কাঁধে অসহ্য ব্যথা। নিজেদের অজান্তেই ফোন, ল্যাপটপে মগ্ন থাকায় চাপ পড়ে দেহের ঊর্ধ্বাঙ্গের মাংসপেশিতে। অনেক ক্ষণ ধরে এই কাজ করায় ও বসার ভঙ্গি ঠিক না থাকায় যন্ত্রণা বাড়তেই থাকে। ঘাড় নিচু করে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপে কাজ করাও হয়। তার থেকেও ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা হয়। যা পরবর্তীতে ডেকে আনতে পারে স্পন্ডিলাইটিসের মতো সমস্যাও।
চিকিৎসকেরা বলছেন, যে অস্থিসন্ধি দ্বারা বাহু ও কাঁধ সংযুক্ত থাকে, সেই অস্থিসন্ধিতে অবস্থিত হাড়, লিগামেন্ট ও টেনডনগুলি কিছুটা ক্যাপসুলের মতো এক প্রকার কোষ দ্বারা আবৃত থাকে। এই ক্যাপসুল ফুললে বা শক্ত হয়ে গেলে ফ্রোজ়েন শোল্ডারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে নিয়মিত জঠর পরিবর্তনাসন অভ্যাসে।
কী ভাবে করবেন?
১) চেয়ারে সোজা হয়ে পা ঝুলিয়ে বসুন। দুই পা মাটিতে থাকবে।
২) মাথা ও ঘাড় সোজা থাকবে। পিঠ টানটান রাখথে হবে।
৩) এ বার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীরের উপরিভাগ বাঁ দিকে যতটা পারেন ঘোরান। কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ মোচড় দিয়ে ঘোরাতে হবে।
আরও পড়ুন:
৪) একই সঙ্গে বাঁ দিকে ধীরে ধীরে ঘাড়ও ঘোরান। তবে খুব বেশি চাপ দেবেন না।
৫) শ্বাস নিতে নিতে শুরুর অবস্থানে ফিরে আসুন।
৬) এর পর শরীর ডান দিকে মোচড় দিয়ে আসনটি একই ভাবে করুন।
৭) প্রতি পাশে ১০-১২ বার আসনটি করতে হবে।
উপকারিতা:
স্পন্ডিলাইটিসের ব্যথা কমবে।
হাত, পা ও কাঁধের পেশি মজবুত হবে। ঘাড়ে ব্যথা থাকলে কমে যাবে।
ফ্রোজ়েন শোল্ডারের সমস্যা থাকলে তা কমবে।
শরীরের ঊর্ধ্বাংশের পেশির ব্যায়াম হবে। শরীরের গড়ন সুন্দর হবে।
নিয়মিত আসনটি অভ্যাসে পিঠ ও পেটের মেদও কমবে।
কারা করবেন না?
স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে আসনটি করা যাবে না।
মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।