E-Paper

প্রাথমিক ক্রীড়ায় অনুপস্থিত শিক্ষকদের জবাব তলব

জেলায় মোট ৩২৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ধাপে ধাপে ৪৬টি চক্রে, তারপর মহকুমা এবং জেলা স্তরে প্রাথমিক ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রাথমিকের চক্র ক্রীড়ায় অনুপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের খোঁজ শুরু করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। পাল্টা হাই কোর্টের একটি রায় উল্লেখ করে সেই সংসদের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিক্ষক সংগঠন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সোমবার একটি নির্দেশিকা জারি করেন। জেলার সমস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শকদের পাশাপাশি জেলাশাসকের দফতরেও ওই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চক্র ক্রীড়াতে যেসব শিক্ষক-শিক্ষিকা অনুপস্থিত ছিলেন তাঁদের লিখিত জবাব দিতে হবে বিদ্যালয় পরিদর্শকদের কাছে। সেটা যদি সন্তোষজনক না হয় তবে ওই শিক্ষক এবং শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চক্র ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জেলায় মোট ৩২৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ধাপে ধাপে ৪৬টি চক্রে, তারপর মহকুমা এবং জেলা স্তরে প্রাথমিক ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, চক্রের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তো বটেই মহকুমা এবং জেলা স্তরের খেলাতেও সংশ্লিষ্ট চক্রের (যে মাঠে খেলা হচ্ছে সেটি যার অন্তর্গত) অন্তর্ভুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষিকাদের সেখানে থাকতে হয়। সেখানেই হাজিরা খাতায় সই করতে হয়। এ বছর অবশ্য তার ব্যতিক্রম হয়েছে। অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাই মাঠে আসেননি। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেই নিয়ে কিছু জানাননি তাঁরা। বৈধ ছুটিও নেননি বললেই চলে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের জারি করা ওই নির্দেশিকা নিয়ে পাল্টা সরব হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ। উল্লেখ্য, গত বছর একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকে অবৈধ বলে জানিয়েছিল হাই কোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ। ‘অবৈধ’ সংসদ কী করে এমন নির্দেশ দিতে পারে সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অল বেঙ্গল প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির সম্পাদক অসীমকুমার গোস্বামী বলেন, ‘‘মহামান্য হাই কোর্টের নির্দেশের পরে শিক্ষা দফতর কোনও নির্দেশ দেয়নি। সেই সুযোগেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি থেকে চক্র ক্রীড়ায় অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ।’’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান অবশ্য তাঁদের বোর্ডকে ‘অবৈধ’ বলে মানতে রাজি নন। তিনি বলছেন, ‘‘হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুর এই দুই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকে অবৈধ বলে জানিয়েছিল হাই কোর্ট। তার পরবর্তীতে মামলা হয়।হুগলি স্থগিতাদেশ পেয়ে গিয়েছে। আশা করছি আমরাও স্থগিতাদেশ পেয়ে যাব।’’ তিনি জুড়েছেন, ‘‘চক্র ক্রীড়াতে বৈধ কারণ ছাড়া সমস্ত শিক্ষক এবং শিক্ষিকাদের উপস্থিত থাকতে হয়। সামান্য সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকাই অনুপস্থিত ছিলেন। সেই জন্যই কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তিনি আদালতে জানাতে পারেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Contai

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy