E-Paper

রাহুলদের আচরণে মর্মাহত স্পিকার, বক্তব্য রিজিজুর

কংগ্রেস গত কাল অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রের খবর, তাতে অন্তত চারটি জায়গায় দিনক্ষণে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সাল লেখা ছিল। যা ওই প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৯
কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু

কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু —ফাইল চিত্র।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কংগ্রেস সাংসদদের ব্যবহারে ‘দুঃখ পেয়েছেন’ বলে কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আজ দাবি করলেন। তিনি বলেন, স্পিকারের ঘরে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা, কে সি বেণুগোপালের সামনে কংগ্রেস সাংসদেরা যে কদর্য ভাষায় তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন তা স্পিকার কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারেননি।

কংগ্রেস গত কাল অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রের খবর, তাতে অন্তত চারটি জায়গায় দিনক্ষণে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সাল লেখা ছিল। যা ওই প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। সূত্রের মতে, স্পিকার নিজে সচিবালয়ের অফিসারদের বলেন, ওই প্রস্তাব আবেদনকারীদের কাছে পাঠিয়ে তা ঠিক করার সুযোগ যেন দেওয়া হয়। অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পর থেকে স্পিকারের চেয়ারে বসছেন না ওম বিড়লা।

বাজেট অধিবেশনের গোড়া থেকেই স্পিকার পক্ষপাত করছেন বলে সরব হন বিরোধীরা। গত সপ্তাহে ধন্যবাদজ্ঞাপন বিতর্কে বলতে গিয়ে দফায় দফায় বাধা পান কংগ্রেসের লোকসভার নেতা রাহুল গান্ধী। সংসদ সুষ্ঠু ভাবে চালানোর লক্ষ্যে নিজের ঘরে বৈঠক ডাকেন স্পিকার। আজ এ প্রসঙ্গে কিরেন বলেন, ‘‘প্রায় ২০-২৫ জন কংগ্রেস সাংসদ হুড়মুড় করে স্পিকারের ঘরে ঢুকে পড়েন। ওই সাংসদেরা প্রিয়ঙ্কা, বেণুগোপালের মতো নেতার সামনেই স্পিকারকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করেন। স্পিকার অত্যন্ত নরম মনের মানুষ। তা না হলে ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হত।’’

পাশাপাশি ধন্যবাদজ্ঞাপন বিতর্কের সময়ে রাহুল গান্ধীকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এ নরবণের অপ্রকাশিত বইয়ের উল্লেখ করতে বারণ করেছিলেন স্পিকার। কিন্তু বারংবার বইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন রাহুল। কিরেনের দাবি, ‘‘রাহুল স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, তাঁর কারও সম্মতির প্রয়োজন নেই। তিনি নিজের ইচ্ছামতো বলতে পারেন। যেখানে স্পিকার অনুমতি দিলে তবেই প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন, সেখানে রাহুল তাঁর নির্দেশ না মানায় দুঃখ পান স্পিকার।’’

সূত্রের মতে, শেষ পর্যন্ত যদি অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়, তা হলে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন, ৯ মার্চ ওই প্রস্তাব নিয়ে প্রথমে আলোচনা ও পরে প্রয়োজনে ভোটাভুটি হবে। কিন্তু সরকারের কাছে সবথেকে বড় সমস্যা, ডেপুটি স্পিকারের না থাকা। গত প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে ডেপুটি স্পিকারের পদ খালি। অতীতে যে চার বার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে, সে সময়ে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডেপুটি স্পিকার। এ বার ওই দায়িত্ব স্পিকার প্যানেলে থাকা কোনও সাংসদের হাতে ন্যস্ত করা হবে। কংগ্রেস সাংসদ মাণিকম টেগোরের কথায়, ‘‘আশা করছি স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা নিয়ে আলোচনার সময় স্পিকারের পদে যিনি অস্থায়ী ভাবে আসীন হবেন, তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা নেবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kiren Rijiju no confidence motion Lok Sabha Congress Rahul Gandhi

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy