মুম্বইয়ের কাছে বিএমডব্লিউ দুর্ঘটনায় এ বার চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করল পুলিশ। তিনি পথসুরক্ষা বিধির তোয়াক্কা না-করেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময়ে বিএমডব্লিউ গাড়িটির গতি ছিল ২৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এমন বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর ফলেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
গত শনিবার বেশি রাতের দিকে জন্মদিনের পার্টি থেকে ফিরছিলেন তিন জন— রেবেকা জ্যাকব, যোগেশ কিশান নেগি এবং অঙ্গদ গিল। তিন জনেই মুম্বই সংলগ্ন বদলাপুরের বাসিন্দা। গাড়ি চালাচ্ছিলেন অঙ্গদ। জন্মদিনের পার্টি সেরে ফেরার পথে বরোদা-পনভেল হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রেবেকা এবং যোগেশের। গুরুতর জখম অবস্থায় অঙ্গদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে শুরু থেকেই পুলিশের সন্দেহ ছিল চালকের ভূমিকার দিকে। প্রাথমিক ভাবে দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। চালক মত্ত অবস্থায় ছিলেন কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রাখা হয়। রবিবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে নমুনাও সংগ্রহ করেন। এ বার ওই দুর্ঘটনায় চালক অঙ্গদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করল পুলিশ।
আরও পড়ুন:
বদলাপুর থানার সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক কিশোর শিন্দে জানান, দুর্ঘটনার সময়ে গাড়িতে তিন জন ছিলেন। ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গিয়েছিল বিএমডব্লিউ গাড়িটি। সম্পূর্ণ দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল এবং গাড়ির বিভিন্ন অংশ রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। তিনি আরও জানান, তদন্তে দেখা গিয়েছে চালক অঙ্গদ ট্রাফিক বিধি ভেঙে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতিতে চালাচ্ছিলেন। তার জেরেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ আধিকারিক।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে বিএমডব্লিউর ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল অর্থ মন্ত্রকের এক আমলার। তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। সেই ঘটনার পর এ বার মুম্বইয়ের কাছে বিএমডব্লিউ দু্র্ঘটনায় মৃত্যু হল দু’জনের।