E-Paper

বিদ্রোহী ব্লকের বৈধতায় প্রশ্ন

রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়ের উল্লেখ করেন কল্যাণ। সুখেন্দু যে তৃণমূল এবং দলের দেওয়া সাংসদ পদ উভয়েই ছেড়েছেন— তা বাকি বিদ্রোহীদের কাছে উদাহরণস্বরূপ বলে মনে করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৭:৫৭
কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়।

কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়।

কীর্তি আজাদকে পাশে নিয়ে আজ দলের বিদ্রোহী লোকসভা-সাংসদদের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূলের লোকসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘গদ্দার’ হিসেবে সম্বোধন করে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের ‘রাজনৈতিক নৈতিকতা’ নিয়ে বিঁধেছেন কল্যাণ। সেই সঙ্গে বলেছেন, এনডিএ-র সমর্থনে ব্লক তৈরির কোনও আইনি বৈধতা নেই। দাবি করেছেন, তাঁদের কাছে তথ্য আছে কে কোন দুর্নীতি ঢাকতে মুখ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন হয়েছেন, কার কাশ্মীরে সম্পত্তি রয়েছে, কে ঘনঘন বেঙ্গালুরুতে যান! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে উপস্থিত, তখন সেখানে নিজের বাসভবনে কল্যাণের সাংবাদিক সম্মেলন মমতার নির্দেশ এবং কৌশলের অঙ্গ বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়ের উল্লেখ করেন কল্যাণ। সুখেন্দু যে তৃণমূল এবং দলের দেওয়া সাংসদ পদ উভয়েই ছেড়েছেন— তা বাকি বিদ্রোহীদের কাছে উদাহরণস্বরূপ বলে মনে করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। পাশাপাশি তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, যে চেষ্টা করছেন বিদ্রোহীরা, তা বেআইনি। ধোপে টিকবে না। দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের প্রয়োজন হয় অন্য দলে সরাসরি যোগ দেওয়ার জন্য অথবা যে কেউ দল থেকে পদত্যাগ করে আবার অন্য দলের টিকিটে লড়তে পারেন। কিন্তু একটি পরিষদীয় দল ভেঙে নতুন কোনও ব্লক তৈরি হতে পারে না লোকসভায়। দলীয় সূত্রের খবর, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, কপিল সিব্বলরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্পিকার যদি বিদ্রোহীদের প্রস্তাবে মান্যতা দেন তা হলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হবে বলে জানাচ্ছেন দলীয় নেতৃত্ব। এই নিয়ে লোকসভার সচিবালয়ের প্রাক্তন মহাসচিব পিডিটি আচার্যের বক্তব্য, ‘দুই-তৃতীয়াংশের আইনটি তখনই কাজে লাগে যখন সাংসদরা অন্য দলে যোগ দেন। এই বিষয়ে আইন খুবই স্পষ্ট। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টেরও একই বক্তব্য। দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ এক জোট হলেও অন্য একটি গোষ্ঠী তৈরির অনুমতি দেওয়ার কোনও উপায় স্পিকারের নেই।’

বিদ্রোহীদের যদি মমতা এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে সত্যিই ক্ষোভ থাকে, তবে নির্বাচনী প্রচারে দলের নেতৃত্বের এত প্রশংসা কেন করেছেন

সেই প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, “এঁদের সকলের ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে বলে, আজও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে চাইছেন। এঁদের প্রতি মুহূর্তে ক্ষমতা চাই। কর্মীরা মার খাচ্ছেন, গ্রেফতার হচ্ছেন অথচ এই সাংসদরা নির্বাচনী ক্ষেত্রে গিয়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। এঁদের রাজধানীতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাংলো চাই, নিরাপত্তা চাই।” পাশাপাশি বলেন, “বিজেপি ওঁদের খুব ভাল করে চেনে। বিজেপি কলঙ্কিত লোকেদের নেবে না। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়া সকলে ২০১১ সালের পর দলে এসেছে। তাঁরা কেউ লড়াই করেননি।”

কল্যাণের বক্তব্য, কোনও অভিযোগ থাকলে দলকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু এমন কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। এই প্রসঙ্গে বিদ্রোহী মহিলা সাংসদদেরও নিশানা করেন তিনি। বলেন, “এঁরা মমতাদিকে ঘিরে থাকতেন আর বলতেন দিদি কী সুন্দর তোমার শাড়ি! কিন্তু অভিযোগ জানাননি।” বিদ্রোহী তারকা সাংসদদের তাঁর কটাক্ষ, “ফিল্মস্টাররা সব ভিন্‌দেশি তারা। এঁদের ধারণা হল, যে হেতু জনতা আমাদের দেখে দৌড়ে আসে, সংসদেও তাই হবে। কেষ্ট (অনুব্রত মণ্ডল) না থাকলে২০০৯ সালে শতাব্দী রায় জিততে পারতেন না।”

গত কয়েক দিনে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ-বিধায়কদের অনেকের মুখেই শোনা গিয়েছে আর জি কর কাণ্ডের কথা। এই পরিস্থিতিতে পেশায় চিকিৎসক কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শর্মিলা সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছোড়ার ঢঙে কল্যাণ বলেন, “আর জি করে ঠিক কী হয়েছিল? পারলে সিবিআইকে সত্যি বলুন।” তাঁর বক্তব্য, নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন, আছেন, থাকবেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kakali Ghosh Dastidar Kalyan Banerjee

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy