নির্বাচন পরিচালন কমিটি গড়ে টিকিট না পাওয়া ‘বিক্ষুব্ধ’দের ক্ষতে মলম লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছে শিলচর বিজেপি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কবীন্দ্র পুরকায়স্থকে মুখ্য উপদেষ্টা করে নির্বাচন পরিচালন কমিটি গড়লেন শিলচরের বিজেপি প্রার্থী তথা বিধায়ক দিলীপকুমার পাল। দল কবীন্দ্রবাবুর ছেলে কণাদ পুরকায়স্থকে বড়খলা আসনে টিকিট না দেওয়ায় তিনি ক্ষোভে ‘ভিশন ডকুমেন্ট কমিটি’র চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিয়েছেন।
দিলীপবাবু বলেন, ‘‘কবীন্দ্রবাবুর ইস্তফা নিয়ে দলীয় স্তরে আলোচনা হচ্ছে। তবে তাঁকে জানিয়েই নির্বাচন পরিচালক কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।’’ কমিটিতে কণাদ পুরকায়স্থকেও সদস্য করেছেন দিলীপবাবু।
নির্বাচন পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন অনিলচন্দ্র দে। তিনি কাটিগড়া আসনে দলীয়
টিকিটের দাবিদার ছিলেন। দিলীপবাবুর জায়গায় শিলচর আসনে যে দু’জন প্রার্থী হতে চেষ্টা করেছিলেন, সেই পার্থসারথি চন্দ এবং দীপায়ন চক্রবর্তীও রয়েছেন পরিচালন কমিটিতে। দীপায়নবাবু অবশ্য বিজেপির শিলচর শহর কমিটির সভাপতি হিসেবে পদাধিকারবলেই কমিটির সদস্য। কমিটিতে রয়েছেন অবধেশ সিংহ, প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্যও। তাঁরা লক্ষ্মীপুর ও উধারবন্দে টিকিট চেয়েও পাননি।
শিলচরের পুরপ্রধান নীহারেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুরও নির্বাচন পরিচালন কমিটির সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে শান্তনু নায়েককে। প্রদীপ দত্তরায়কে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান অসীম দাস। এ ছাড়াও প্রচার (সংবাদ মাধ্যম ছাড়া), পরিবহণ, তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগ এবং ‘ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সেল’ তৈরি করেছেন দিলীপবাবু।
কংগ্রেস এখনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও দিলীপবাবু বলেন, ‘‘যে কোনও প্রার্থীর মোকাবিল করতে আমি ও দল প্রস্তুত।’’
অন্য দিকে, লক্ষ্মীপুর আসনে প্রার্থী হতে না পেরে অনুগামীদের নিয়ে বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সঞ্জয় ঠাকুর। আজ তিনি জানান, দলে থেকেই নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অপর বিক্ষুব্ধ নেত্রী রীনা সিংহও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ১৭ মাস আগে লক্ষ্মীপুর আসনের উপ-নির্বাচনে দল সঞ্জয়বাবুকে প্রার্থী করেছিল। জিততে না পারলেও কংগ্রেস প্রার্থী রাজদীপ গোয়ালাকে নাস্তানাবুদ করেন তিনি। এ বার দল তাঁর বদলে থৈবা সিংহকে টিকিট দেয়। প্রতিবাদে সদলবলে বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছিলেন সঞ্জয়বাবু। জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পরে তিনি চিরিপুল মহাদেব মন্দিরে সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করেন। রীনাদেবী, লক্ষ্মীপুর ব্লক কমিটির সভাপতি কালাচাঁদ বণিক, যুব মোর্চা সভাপতি গুঞ্জন করও সেখানে ছিলেন। সঞ্জয়বাবু জানান, দল প্রার্থী বদল না করলে সমর্থকদের দাবি মেনে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সে ক্ষেত্রে দল তাঁকে বহিষ্কার করলেও কিছু করার নেই।
টিকিট-বঞ্চিত রীনাদেবী নির্দল হিসেবে না দাঁড়ালেও চিরিপুলের জমায়েতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি কোনও মতেই থৈবা সিংহের জন্য কাজ করতে পারবেন না। তিনি সঞ্জয় ঠাকুরের পক্ষ নেবেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এ বার টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন আসনে। এ জন্য দায়ী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
অবশ্য দলের ভারপ্রাপ্ত জেলা সভাপতি বিমলেন্দু রায় বিক্ষুব্ধদের পাত্তা না দিয়ে দাবি করেন, কর্মীদের মধ্যে মোটেও ক্ষোভ নেই। তিনি তিনটি ব্লক কমিটির সঙ্গেই কথা বলেছেন। সবাই দলীয় সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছে।