ভাই তেজস্বী যাদব এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাঠগড়ায় তুলে বাড়ি ছেড়েছেন লালুপ্রসাদ যাদবের কন্যা রোহিণী আচার্য। বিহার ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই যাদব পরিবারের কোন্দল প্রকাশ্যে! এনডিএ শিবিরে তো বটেই আরজেডির মধ্যে এই নিয়ে ফিসফাস চলছে। কী ভাবে পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাবেন লালু, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অবশেষে কন্যার গৃহত্যাগ নিয়ে মুখ খুললেন আরজেডি প্রধান। স্পষ্ট জানালেন, সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি আছেন। তিনিই বিষয়টি ঠিক করবেন!
রাজনীতি এবং পরিবারের সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই বলে ঘোষণা করে দিয়ে শনিবার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রোহিণী। শুধু তা-ই নয়, কেন তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, তা নিয়ে বার বার মুখ খুলেছেন তিনি। কাঠগড়ায় তুলেছেন লালুপুত্র তেজস্বীকে। রোহিণী দাবি করেন, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়েছে। মারার জন্য তোলা হয়েছে জুতোও। রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে আরও এক ধাপ এগিয়ে রোহিণী জানান, বাবাকে কিডনি দেওয়া নিয়েও তাঁকে খোঁটা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তাঁর কিডনি ‘নোংরা’। তবে গত দু’দিন ধরে এই ঘটনাপ্রবাহে নীরবই ছিলেন যাদব পরিবারের প্রধান। মুখ খোলেননি রাবড়ী দেবী এবং তেজস্বীও।
রোহিনীর বাড়ি ছাড়ার পর সোমবার প্রথম নীরবতা ভাঙলেন লালু। পটনায় দলীয় বিধায়কদের নিয়ে এক বৈঠকে আরজেডি প্রধান জানান, রোহিনীর বিষয়টি পরিবারের অভ্যন্তরীণ। পরিবারের মধ্যেই তার সমাধান হবে। সেই সমস্যা মোকাবিলার জন্য তিনি আছেন! ওই বৈঠকে তেজস্বীকে বিধানসভায় আরজেডির দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। লালু দলীয় বিধায়কদের উদ্দেশে জানান, পারিবারিক কোন্দলের চেয়েও দলের সাংগঠনিক কাজে মনোনিবেশ করা উচিত সকলের।
আরও পড়ুন:
শুধু একা রোহিনী নন, পটনার বাড়ি ছেড়েছেন লালুর আরও তিন কন্যা রাজলক্ষ্মী, রাগিনী এবং চন্দা। তাঁরাও একপ্রকার তেজস্বীকে কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁদের দাবি, বিশ্বাস ভেঙে গিয়েছে। পরিবারের লোকেদের থেকে বাইরের লোকেদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চার কন্যা বাড়ি ছাড়লেও লালুর পাশে রয়েছেন, তাঁর বড় মেয়ে মিসা ভারতী। সোমবারের বৈঠকে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে পাটলিপুত্রের আরজেডি সাংসদ বলেন, পারিবারিক বিষয়ে বেশি মনোযোগ না-দিয়ে দলের সকলের উচিত এনডিএ-র ভোট-প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা করা। তাঁর কথায়, ‘‘এই সব ঘটনা একটা পরিবারের মধ্যে হয়েই থাকে। আবার পরিবারের মধ্যেই তা সমাধান হয়ে যায়। দলকে কী ভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, এই মুহূর্তে আমাদের সেটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা উচিত। এখন দেখার, ৭৭ বছর বয়সি লালু কী ভাবে ঢাল হয়ে পরিবারের ফাটল মেরামত করেন!