দীর্ঘ দরকষাকষি এবং স্নায়ুযুদ্ধের পর ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তিতে সমঝোতা হল। আর তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটনে আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠক করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাশাপাশি, তিনি দেখা করছেন আমেরিকার রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্টের সঙ্গেও। জানা গিয়েছে, উভয় পক্ষের কথা হয়েছে বাণিজ্যচুক্তি পরবর্তী শক্তিক্ষেত্র, পারমাণবিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, দুর্লভ খনিজ সম্পদ, প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন, দুই গণতান্ত্রিক দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারি এখন আরও গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে দুর্লভ খনিজ সম্পদের সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈঠকের পর এক্স হ্যান্ডলে জয়শঙ্কর লিখেছেন, অর্থনৈতিক অংশীদারি ও কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যেতে ‘উপকারী আলোচনা’ হয়েছে।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আজ সরব হয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। সংসদের দুই কক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে তাঁর মন্তব্য, “এই চুক্তি নিয়ে দরকষাকষির সময়েই ভারত তার কৃষি ও ডেয়ারি ক্ষেত্রের স্বার্থকে সুরক্ষিত করতে সক্ষম হয়েছে। এক বছর ধরে চলা আলোচনার মাধ্যমে দু’পক্ষ তাদের মতপার্থক্যকে অনেকটাই কমিয়ে আনতে পেরেছে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রকে চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছে।’’ গয়ালের কথায়, ‘‘সংসদকে জানাতে চাই যে এর পরের ধাপ হিসেবে দু’পক্ষ কাগজপত্র তৈরির প্রায়োগিক দিকটি সম্পূর্ণ করবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্র চুক্তির বিভিন্ন খুঁটিনাটি প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হবে।” ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত ৫০,০০০ কোটি ডলারেরও (৪৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি) বেশি মূল্যের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা এবং অন্যান্য অনেক পণ্য কিনবে আমেরিকা থেকে। আজ বাণিজ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “ভারত এবং আমেরিকা একে অপরের পরিপূরক অর্থনীতি। যতই বিকশিত ভারতের দিকে এগোচ্ছি আমরা, বহু ক্ষেত্রেই বৃদ্ধির প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। আমি জানাতে চাই, ভারতের খাদ্য এবং কৃষিক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ছোট ও মাঝারি শিল্প, দক্ষ শ্রমিক, শুল্ক, আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।”
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করা নিয়ে বিদেশ মন্ত্রক এবং বাণিজ্য মন্ত্রক নীরব থাকলেও হোয়াটই হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে পুরোপুরি ভাবে তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কথা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে খুবই ভাল ও ফলপ্রসূ কথাবার্তা হয়েছে। চুক্তিতে তাঁরা সিলমোহর দিয়েছেন রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে আমেরিকা ও ভেনেজ়ুয়েলা থেকে আরও বেশি তেল কেনার বিষয়ে ভারত রাজি হওয়ার পর।”
কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ আজ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদের দুই কক্ষে যে বিবৃতি দিয়েছেন তা আসলে কোনও বিবৃতিই নয়। চুক্তির কোনও বিস্তারিত তথ্যই দেওয়া হয়নি, তার কারণ এখনও আলোচনা চলছে। পীযূষ গয়ালের ঢ্যাঁড়া পেটানো দাবি আর আমেরিকার রাজস্ব সচিব এবং কৃষি সচিব তাদের সমাজমাধ্যমের হ্যান্ডলে যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ আলাদা। এই চুক্তি যখন প্রকাশ্যে আসবে, কৃষকদের প্রকৃত ধাক্কাটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)