আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যার প্রতিবাদে রবিবার থেকে জম্মু ও কাশ্মীর, হায়দরাবাদ, লখনউ-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জমায়েত করেছেন শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমরা। একে কেন্দ্র করে সোমবার কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছড়ায়। পাঁচ পুলিশ-সহ মোট ১২ জন জখম হয়েছেন। ফলে সেখানে নিরাপত্তার কড়াকড়ি করেছে পুলিশ। জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ এবং অবস্থানের অধিকার সকলের আছে। কিন্তু তা যেন হিংসায় বদলে না যায়। হিংসা কিংবা পাথর ছোড়া একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাতে সাধারণ জনজীবন বিঘ্নিত হবে। সবচেয়ে সমস্যায় পড়েন ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং দিনমজুরেরা। আজ জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সাধারণ মানুষের কাছে আবেগ নিয়ন্ত্রণের আবেদন জানিয়েছেন। ওমর জানান, ইরানে থাকা কাশ্মীরি পড়ুয়াদের কী ভাবে দেশে ফেরানো যায়, সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি।
রবিবার থেকে কাশ্মীরে মিছিল ও শোক পালন শুরু হয়। রাজধানীর লালচকে জড়ো হন সাধারণ মানুষ। তখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। সে দিন রাত থেকে নিরাপত্তার কড়াকড়ি শুরু করে পুলিশ। টিন দিয়ে ঘিরে লালচক বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিয়ন্ত্রণ টানা হয় মোবাইল ইন্টারনেটের পরিষেবায়। সোমবার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ ঘিরে অশান্তি তৈরি হয়। লালচকে ঢুকতে না দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠি চালায় পুলিশ। অশান্তি হয়েছে শ্রীনগর-বারামুলা জাতীয় সড়কেও। এই পরিস্থিতিতে আজ নিরাপত্তার কড়াকড়ি দ্বিতীয় দিনে পড়ল। জম্মুর পুঞ্চে সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ ছিল বাজার, দোকান। স্কুল-কলেজও দু’দিন ধরে বন্ধ।
পুলিশ সূত্রের খবর, সমাজমাধ্যমের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। যাতে কোনও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা না হয়। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক প্রোফাইল চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিকের দাবি, ‘‘কয়েক জন বিশিষ্ট ব্যক্তি অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)