E-Paper

কংগ্রেসত্যাগীদের দাপটে বাদ, বিজেপিতে ফুঁসছেন পুরনোরা

যে ভাবে পুরনো বিজেপি নেতাদের অধিকাংশকে বাদ দিয়ে হিমন্ত কংগ্রেস থেকে আসা নেতাদের বেছে নিয়েছেন, তা নিয়ে বিজেপিতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

রাজীবাক্ষ রক্ষিত

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

দুই শরিকের জন্য আসন ছেড়ে অসম বিধানসভা ভোটে ৮৮ জনের প্রার্থী তালিকা বৃহস্পতিবার প্রকাশ করল বিজেপি। তালিকায় বাদ পড়েছেন ১৯ জন বর্তমান বিধায়ক। জোট শরিক অগপ ২৬ ও বিপিএফ ১১ আসনে লড়বে। ১টি আসনে এখনও নাম ঘোষণা বাকি। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জালুকবাড়ি থেকেই লড়ছেন। সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈকে দিসপুরে দাঁড় করাতে গিয়ে সেখানে পুরনো বিধায়ক অতুল বরাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন বরাকে বিহপুরিয়ায় প্রার্থী করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন মন্ত্রী নন্দিতা গার্লোসা, ডেপুটি স্পিকার নুমল মোমিন। বাদ পড়েছেন ২০১৬ সালে হিমন্তকে বিজেপিতে আনা তৎকালীন রাজ্য সভাপতি, প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্তমান বিধায়ক সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য।

কংগ্রেস থেকে আসা বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ কাটিগড়া, শশীকান্ত দাস রহায় টিকিট পেলেও কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়কদের মধ্যে বিস্মিতা গগৈ, রাণা গোস্বামী, বসন্ত দাস, অঙ্কিতা দত্ত, জুরি শর্মা বরদলৈ, মানস বরা, রাতুল কলিতার নাম তালিকায় নেই। আসু থেকে বিজেপিতে যাওয়া প্রাক্তন সভাপতি দীপাংক নাথ, তপন গগৈ, সাধারণ সম্পাদক শঙ্করজ্যোতি বরুয়া, নেতা ঋতুপর্ণা বরুয়ারাও টিকিট পাননি। হোজাইতে ফের টিকিট পেলেন প্রাক্তন বিধায়ক ও ভাষিক সংখ্যালঘু পরিষদের চেয়ারম্যান শিলাদিত্য দেব। বিজেপির তালিকায় আছেন ৬ মহিলা। তাঁদের মধ্যে মন্ত্রী অজন্তা নেওগ বাদে সকলেই নতুন মুখ।

যে ভাবে পুরনো বিজেপি নেতাদের অধিকাংশকে বাদ দিয়ে হিমন্ত কংগ্রেস থেকে আসা নেতাদের বেছে নিয়েছেন, তা নিয়ে বিজেপিতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দিসপুর কেন্দ্রে প্রদ্যুৎকে প্রার্থী করায় বাদ পড়া প্রাক্তন মন্ত্রী ও ৬ বারের বিধায়ক অতুল বরা বলেন, “এ বিশ্বাসঘাতকতা! আমি ১৯৮৫ সাল থেকে দিসপুরের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং আমার রাজনৈতিক জীবনে তিন জন মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছি। স্বাভাবিক ভাবেই আশা করেছিলাম, দল আমার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেবে। কিন্তু বিজেপি আজ পথভ্রষ্ট। তারা বাইরের প্রার্থীদের এনে টিকিট দিচ্ছে।”

একই সুরে পুরনো বিজেপি নেতা ও হিমন্তকে দলে আনার অন্যতম কারিগর জয়ন্ত দাস বলেন, দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ বিজেপি কর্মীদের উপেক্ষা করে কংগ্রেস থেকে আসা ‘দলবদলু’দের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। হিমন্ত দুর্নীতিতে জড়িত এবং রাজ্যে মাফিয়া রাজ, কয়লা ও গরু পাচার চক্র পরিচালিত হচ্ছে। জয়ন্ত জানান, তিনি বিদ্রোহী বিজেপি কর্মীদের নিয়ে নতুন দল গঠনের পরিকল্পনা করছেন। ধলাইয়ের বিজেপি বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাস টিকিট না পাওয়ায় রাজ্য সভাপতিকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে জানান, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলেও দল তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাই তিনি বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। উজানি থেকে নামনি— সর্বত্র টিকিট-বঞ্চিতদের ক্ষোভ সামাজিক মাধ্যমে হিমন্ত ও নব্য বিজেপিদের বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ছে।

বিজেপি সূত্রে খবর, প্রার্থী দেওয়া নিয়ে দলে সর্বানন্দ সোনোয়াল ও হিমন্ত শিবিরের জোর টানাপড়েন চললেও হিমন্তর প্রভাবই বজায় থেকেছে। এমনকি চূড়ান্ত তালিকা রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকিয়াকেও দেখানো হয়নি। পরিস্থিতি এমন, বিভিন্ন কেন্দ্রে কংগ্রেস থেকে আসা বিজেপি প্রার্থীদের হারানোর পরিকল্পনাও করছে হিমন্ত-বিরোধী শিবির। হিমন্ত অবশ্য জানান, ২৪ মার্চ থেকে প্রচারাভিযান শুরু হবে। নেতৃত্বে থাকবেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। পাশাপাশি দলে কোনও বিদ্রোহ নেই বলে দাবি করে হিমন্ত বলেন, ‘‘সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে বর্তমান বহু বিধায়ককে টিকিট দিতে সমস্যা হয়েছে। অনেক আসন এসসি-র জন্য সংরক্ষিত হয়ে গিয়েছে। বিজেপি পরিবারবাদের বিরোধী। আমাদের দলে ব্যক্তি বড় কথা নয়।’’ তিনি জানান, সিসিবরগাঁওয়ের প্রার্থী পরে ঘোষণা করা হবে।

অসমের প্রার্থী ঘোষণার পাশাপাশি বিজেপি নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা উপ-নির্বাচনেও প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নাগাল্যান্ডে করিডাং কেন্দ্রের বিধায়ক ইমকং এল ইমচেন ও ত্রিপুরার ধর্মনগরের বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেনের মৃত্যুতে আসন দুটি খালি হয়েছিল।

এ দিকে, বিজেপির জোট শরিক অগপও আজ ২৬টি আসনেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। কংগ্রেস ছেড়ে আসা সংখ্যালঘু বিধায়কদের টিকিট দেওয়া হলেও ৩০ বছর ধরে পশ্চিম গুয়াহাটিতে বিধায়ক থাকা রমেন্দ্র নারায়ণ কলিতার কেন্দ্রটি না থাকায় তিনি টিকিট পাননি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

guwahati Assam BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy