E-Paper

বিনয় মিশ্রের নামে ইডির ‘সিলভার নোটিস’

মামলায় ইডির তরফে শীর্ষ আদালতে ৮ জানুয়ারির ঘটনা সংক্রান্ত প্রায় আড়াইশো পাতার হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। ওই হলফনামাতেই ‘সিলভার নোটিসে’র উল্লেখ রয়েছে।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৬
পলাতক বিনয় মিশ্র।

পলাতক বিনয় মিশ্র। —ফাইল চিত্র।

কয়লা পাচারের মামলায় অভিযুক্তদের বিদেশে থাকা কালো টাকা ও সম্পত্তির খোঁজে 'সিলভার নোটিস' জারি করা হয়েছে বলে আদালতে নথি পেশ করে দাবি করল ইডি। ২০২০ সালের কয়লা পাচার মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র বিদেশে রয়েছেন। তাঁর তরফে ভারতীয় পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ভানাটু দ্বীপরাষ্ট্রের বাসিন্দা বলে ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে।

ইডি সূত্রের দাবি, কয়লা পাচারে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি হয়েছিল। বিভিন্ন অভিযুক্তের মোট ৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিনয় মিশ্রের মাধ্যমে কয়লা পাচারের কালো টাকা বিদেশে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে, পাশাপাশি সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সূত্র পাওয়া গিয়েছে।

অভিযুক্তদের ওই সব কালো টাকা এবং সম্পত্তির হদিস করতেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে 'সিলভার নোটিস' জারি করা হয়েছে বলে আদালতের নথিতে দাবি করেছে ইডি। সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওই নোটিস চালু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫২টি দেশে ওই নোটিস জারি করে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় জড়িত অভিযুক্তদের কালো টাকার ব্যাঙ্ক আমানত ও সম্পত্তির খোঁজে ওই তদন্ত প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। তার পরই বিনয়ের বিরুদ্ধে ওই নোটিস জারি করা হয়েছে বলে হলফনামায় দাবি করেছে ইডি।

গত ৮ জানুয়ারি ২০২০ সালের কয়লা পাচারের মামলায় কলকাতা ও দিল্লিতে, শাসকদলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুলিশের তৎকালীন নগরপাল মনোজ বর্মা উপস্থিত হয়েছিলেন। ইডির তদন্তকারীদের দাবি, কয়লা পাচারের তদন্তের বহু লিখিত এবং বৈদ্যুতিন নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ওই মামলা বর্তমানে শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। ১৮ মার্চ পরবর্তী শুনানি। ওই মামলায় ইডির তরফে শীর্ষ আদালতে ৮ জানুয়ারির ঘটনা সংক্রান্ত প্রায় আড়াইশো পাতার হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। ওই হলফনামাতেই ‘সিলভার নোটিসে’র উল্লেখ রয়েছে।

ইডির দাবি, ২০২০-র পর থেকে ধাপে ধাপে মামলার অগ্রগতি হচ্ছে। ওই মামলায় একাধিক প্রভাবশালী-সহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রায় ৩১ জনকে সমান জারি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ইডির তদন্তকারীদের দাবি, ২০২০ সালের কয়লা পাচারের মামলায় এ রাজ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার আত্মীয়দের নামে বিদেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কয়লা পাচারের কালো টাকা জমা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্র পাওয়া গিয়েছে। ওই সব টাকা বিনয় মারফত জমা হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Enforcement Directorate

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy