রবিবারের থেকে সোমবার আরও বেশি তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে হিমাচল প্রদেশে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে সোমবার থেকে পাহাড়ের উঁচু এলাকায় ভারী তুষারপাত হতে পারে। সোম ও মঙ্গল মিলিয়ে জারি করা হয়েছে একাধিক সতর্কতাও।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত সোমবারের জন্য পুরো রাজ্যে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার কুলু, কিন্নৌর, চাম্বা এবং লাহুল ও স্পিতি জেলার জন্য ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। বাকি ন’টি জেলার জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কনকনে ঠান্ডার পূর্বাভাস রয়েছে।
রবিবার রাজ্যের শৈলশহরগুলিতে হালকা থেকে ভারী তুষারপাত হয়। যার জেরে রাস্তা বরফে ঢাকা পড়েছে। যানজটের কারণে পুরো থমকে যায় মানালি। কোঠি থেকে মানালি যাওয়ার আট কিলোমিটার রাস্তায় ছিল গাড়ির দীর্ঘ লাইন। প্রবল তুষারপাতের জেরে হিমাচলে তিনটি জাতীয় সড়ক-সহ মোট ৮৩৫টি রাস্তা যানচলাচলের জন্য বন্ধ ছিল।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, লাহুল ও স্পিতি জেলায় এনএইচ-৩ (লেহ-মানালি) এবং এনএইচ-৫০৫ (কাজ়া-গ্রামফু)-সহ প্রায় ২৮২টি রাস্তা বন্ধ আছে। এ ছাড়াও, শিমলায় ২৩৪টি, মান্ডিতে ১১০টি, চাম্বায় ৭৮টি, কুলু জেলায় এনএইচ -৩০৫ (সৈঞ্জ-লুহরি-আউট)-সহ ৬৫টি, সিরমৌরে ৪১টি, কিন্নৌরে ১৮টি, কাংড়ায় ৪টি এবং উনা জেলায় ৩টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে।
পাশাপাশি, তুষারপাতের কারণে রাজ্য জুড়ে প্রায় ১,৯৪২টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শিমলা জেলায় ৭৮৯টি, সিরমৌরে ৩৫৪টি, মান্ডিতে ২৮৪টি, চাম্বায় ২৭৭টি, কুলুতে ১৭৪টি, লাহুল ও স্পিতিতে ২৭টি এবং সোলানে ২৩টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
রবিবার পাহাড়ের উঁচু এলাকার বিচ্ছিন্ন কিছু অঞ্চলে হালকা তুষারপাত ও বৃষ্টি হলেও রাজ্যের অধিকাংশ অংশে আবহাওয়া শুষ্ক ছিল। মানালি, উনা, হামিরপুর, কাংড়া, মান্ডি এবং বিলাসপুরে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি ছিল। লাহুল ও স্পিতি জেলার তাবো গ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল -১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।