E-Paper

মহাকাশে ডেটা সেন্টার কি সম্ভব, জানতে বেলুন

বেলুনটির সঙ্গে নানা যন্ত্রাংশ (পে-লোড) গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মানের ক্যামেরা, কম্পিউটার। ১০০ ফুট লম্বা বেলুনটি সকাল ৯টা নাগাদ উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৭:৪৪
ওড়ানোর আগে স্ট্র্যাটোস্ফেরিক বেলুন। মঙ্গলবার চন্দ্রপুরে।

ওড়ানোর আগে স্ট্র্যাটোস্ফেরিক বেলুন। মঙ্গলবার চন্দ্রপুরে। — নিজস্ব চিত্র।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ডিজিটাইজ়ড তথ্য ভান্ডার (ডেটা সেন্টার) প্রয়োজন। মহাকাশে কি তেমন ভান্ডার গড়ে তোলা সম্ভব? সেখানে কি কম্পিউটার ঠিক মতো কাজ করবে? এ সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মঙ্গলবার বীরভূমের রাজনগরের চন্দ্রপুর থেকে স্ট্র্যাটোস্ফেরিক বেলুন উৎক্ষেপণ করা হল। বেঙ্গালুরুর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থা এবং ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স’ (আইসিপিএস)-এর যৌথ উদ্যোগে।

বেলুনটির সঙ্গে নানা যন্ত্রাংশ (পে-লোড) গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মানের ক্যামেরা, কম্পিউটার। ১০০ ফুট লম্বা বেলুনটি এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। পাঁচ ঘণ্টার উড়ানের পরে, বেলুনটি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ৪২ কিলোমিটারের উচ্চতায় পৌঁছেছিল। শেষে, উৎক্ষেপণ স্থল থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে বেলুনের পে-লোড একটি আলাদা প্যারাশুটের মাধ্যমে নেমে এসেছে। যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সেগুলি কাঙ্ক্ষিত তথ্য ঠিক মতো সংগ্রহ করেছে।

আইসিপিএস সূত্রে জানা গিয়েছে, আবহাওয়া ও মহাকাশ সংক্রান্ত নানা তথ্য পেতে কৃত্রিম উপগ্রহ ও স্পেস স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কম খরচে বিকল্প হতে পারে স্ট্র্যাটোস্ফেরিক বেলুন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিপিএস বীরভূমের রাজনগরের চন্দ্রপুরে সাড়ে ছ’বিঘা জমি কেনে। এখানে একটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা ছিল উদ্দেশ্য। তবে এখনও কেন্দ্রটির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। আইসিপিএসের ডিরেক্টর সন্দীপকুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমাদের বেলুন ওড়ানোর অভিজ্ঞতা দেখেই বেঙ্গালুরুর সংস্থাটি যোগাযোগ করেছিল। পে-লোড নিয়ে এ দিন বেলুনটি ঠিকঠাক উড়ল।’’

বেঙ্গালুরুর সংস্থার তরফে পুনর্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য বিশাল ডেটা সেন্টার প্রয়োজন। এর জন্য প্রচুর জায়গা, প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ এবং ঠান্ডা করার ব্যবস্থা দরকার। যাতে বিপুল খরচ হয়। মহাকাশে সৌরশক্তি সহজলভ্য এবং প্রাকৃতিক ভাবেই ঠান্ডা থাকায় ডেটা সেন্টার তৈরি করা সম্ভব। তাইএই পরীক্ষা।’’

এ দিন পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ৪২ কিমি উচ্চতায় মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কম্পিউটার (গ্রাফিক প্রসেসিং ইউনিট যুক্ত) ঠিক মতো কাজ করছে কি না, সেটাই প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে বলে জানান পুনর্জয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Space AI

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy