মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা। অরবিন্দ কেজরীওয়ালের আম আদমি পার্টি। একের পর এক আঞ্চলিক দলের সাংসদেরা দল ভেঙে এনডিএ শিবিরে যোগ দিলেও, বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব শরদ পওয়ারের এনসিপি-র লোকসভার সাংসদদের ভাঙিয়ে এনডিএ-তে নিয়ে আসার পক্ষে নন। তবে শরদের এনসিপি নিজে থেকেই সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিলে মোদী সরকারকে সমর্থন করতে পারে কি না, তা নিয়ে ‘দৌত্য’ শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, শরদের এনসিপি নেতৃত্ব এক দিকে তাঁদের দলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা ভাসিয়ে দিচ্ছেন। সেখানে তাঁরা বলছেন, সুপ্রিয়া সুলেকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হলে শরদের দল কংগ্রেসে মিশে যেতে পারে। অন্য দিকে, সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিলে সুপ্রিয়া সুলে-সহ পওয়ারের দলের সাংসদদের মোদী সরকারকে সমর্থন নিয়েও দর কষাকষি চলছে।
সূত্রের খবর, এই দর কষাকষির সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের মিশে যাওয়ার সম্ভাবনাকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে পওয়ার পরিবার। যদিও শরদ-ঘনিষ্ঠ শিবিরের বক্তব্য, ৮৬ বছর বয়সে পওয়ার নিজের তৈরি দলের অস্তিত্ব মুছে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাবেন, এমন সম্ভাবনা কম। কারণ, তা হলে তাঁর পৃথক রাজনৈতিক পরিচিতিই থাকবে না।
পওয়ারের দলের অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়কের মত, কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে গেলে ২০২৯-এর লোকসভা ও মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের জিতে আসার সম্ভাবনা কমবে। বরং সংসদে মোদী সরকারকে কৌশলগত সমর্থন করলে কেন্দ্র ও রাজ্যের এনডিএ-সরকারের থেকে এলাকার উন্নয়নে অর্থ সাহায্য পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি শরদের নাতনি, সুপ্রিয়া-কন্যা রেবতীর সঙ্গে আরএসএস ঘনিষ্ঠ, নাগপুরের শিল্পপতি অরুণ লাখানির পুত্র সারঙ্গের বিয়ে হয়েছে। অরুণের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সম্প্রতি বিজেপি তাঁকে মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদে জিতিয়েছে। এই পারিবারিক সূত্র ধরে শরদ পরিবারের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের দৌত্য শুরু হয়েছে বলে একটি সূত্রের দাবি। অন্য দিকে, সুপ্রিয়া কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের দলের মিশে যাওয়ার প্রস্তাবকেপ্রকাশ্যে ‘ভাল পরামর্শ’ বলে জল্পনা ভাসিয়ে দিয়েছেন।
গত এপ্রিলে মোদী সরকার লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করে মহিলা সংরক্ষণের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে চেয়েছিল। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তা পারেনি। এখন তারা সেই বিলে রদবদল করে ফের পাশ করাতে চায়। ‘এক দেশ, এক ভোট’ চালু করতে এবং টানা ৩০ দিন আটক থাকলে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিলও পাশ করাতে চায়। কংগ্রেসের অভিযোগ, লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করতেই অমিত শাহ আঞ্চলিক দল ভাঙাচ্ছেন। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে হলে লোকসভার ৫৪৩ জন সাংসদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন বা ৩৬২ জনের ভোটের দরকার। এনডিএ-র সাংসদ সংখ্যা ২৯৪ জন। তৃণমূল, উদ্ধবের শিবসেনার মোট ২৬ জন সাংসদ ভাঙালেও এনডিএ-র পক্ষে ৩২০ জন হয়। তাই এ বার শরদের এনসিপি-র ৮ জন সাংসদের সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, এই ৮ জন লোকসভা সাংসদ এবং শরদের দলের মহারাষ্ট্রের বিধায়কদের অনেকেই এনডিএ-তে যোগ দিতে আগ্রহী। কিন্তু বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব শরদের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের সুবাদে দল ভাঙিয়ে তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলতে চান না। মোদী সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক শিল্পপতির সঙ্গে পওয়ারের সুসম্পর্কও এর প্রধান কারণ। আবার শরদও রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি ছেড়ে সরাসরি বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে চান না। তাই এখন মধ্যপন্থার খোঁজ চলছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)