Advertisement
E-Paper

উচ্চবর্ণেরা কি পঞ্চায়েত এবং পুরসভায় সংখ্যালঘু? ‘রাজনৈতিক অনগ্রসর শ্রেণি’ কারা, খতিয়ে দেখতে চাইছে সুপ্রিম কোর্ট

মহারাষ্ট্রে পঞ্চায়েত এবং পুরসভার ভোটে আসন সংরক্ষণ খতিয়ে দেখার জন্য অতীতে একটি কমিটি গড়ে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ওই কমিটির সুপারিশকে চ্যালেঞ্জ করে এ বার মামলা হয়েছে আদালতে। নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৫

— প্রতীকী চিত্র।

উচ্চবর্ণেরা কি রাজনৈতিক ভাবে সংখ্যালঘু? অন্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) মানে কি তারা রাজনৈতিক ভাবেও অনগ্রসর? এ বার তা খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট। পঞ্চায়েত এবং পুরসভা স্তরে ব্রাহ্মণ এবং উচ্চবর্ণদের প্রতিনিধিত্ব দৃশ্যত কমেছে। এ অবস্থায় পঞ্চায়েত এবং পুরসভায় ‘রাজনৈতিক অনগ্রসর শ্রেণি’ কারা, তা বিবেচনা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

মূলত মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক নির্বাচন সংক্রান্ত এক মামলার ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চাইছে সুপ্রিম কোর্ট। অতীতে মহারাষ্ট্রেই পুরসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলায় একটি কমিটি গড়ে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। অবসরপ্রাপ্ত আমলা জয়ন্তকুমার বান্থিয়ার নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল। ওই সুপারিশ গ্রহণও করে সুপ্রিম কোর্ট। এখন বান্থিয়া কমিটির ওই সুপারিশগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারী পক্ষের দাবি, কেউ ওবিসি তালিকাভুক্ত হওয়া মানেই তিনি রাজনৈতিক ভাবে অনগ্রসর নন। এ অবস্থায়, ‘রাজনৈতিক অনগ্রসর শ্রেণি’ কারা, তা খতিয়ে দেখতে নতুন কমিটি গঠনের আর্জি জানিয়েছে মামলাকারী পক্ষ।

মামলাকারী পক্ষ এ বিষয়ে ২০১০ সালের এক মামলার কথা উল্লেখ করেছে। কৃষ্ণমূর্তি বনাম কেন্দ্রীয় সরকারের ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছিল, “সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে অনগ্রসর হওয়া মানেই রাজনৈতিক ভাবে অনগ্রসর হয়ে যাওয়া নয়।”

সম্প্রতি শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় এ বিষয়ে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের পঞ্চায়েত-পুরসভা নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই বেশ কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেই মামলাগুলির সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হয়েছে নতুন আবেদনটি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ বিষয়ে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ‘টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়া’ অনুসারে, প্রাথমিক ভাবে শীর্ষ আদালত মনে করছে, রাজনৈতিক অনগ্রসর শ্রেণি সাধারণ ভাবে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে থেকেই হওয়ার কথা। উল্টোটা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে আদালত।

মহারাষ্ট্রের পঞ্চায়েত এবং পুরসভা ভোট সংক্রান্ত বিষয়ে ২০২১ সালের এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট অবসরপ্রাপ্ত আমলা বান্থিয়ার নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়ে দিয়েছিল। ২০২২ সালের জুলাই মাসে কমিটি আঞ্চলিক নির্বাচনে ওবিসি-দের আসন সংরক্ষণ নিয়ে তাদের রিপোর্ট জমা দেয় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে তারা সুপারিশ করেছিল, পঞ্চায়েত এবং পুরসভাগুলিতে ওবিসি-দের ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ রাখতে হবে। তবে তা মোট সংরক্ষিত আসনের ৫০ শতাংশের বেশি হবে না।

সুপ্রিম কোর্টও তখন জানিয়েছিল, বান্থিয়া কমিটির ওই সুপারিশগুলি মেনেই মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক নির্বাচন হবে। এ বার ওই কমিটির সুপারিশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ‘ইউথ ফর ইকুয়ালিটি ফাউন্ডেশন’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাদের দাবি, মহারাষ্ট্রের পুরসভা এবং পঞ্চায়েত ভোটে ‘রাজনৈতিক অনগ্রসর শ্রেণি’ নতুন করে খতিয়ে দেখা হোক।

Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy