Advertisement
E-Paper

আইন সংশোধন করুন! ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলাদের স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের জন্য যেন সময়সীমা না-থাকে: কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্ট

স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করানোর জন্য আইনে সংশোধনী আনা দরকার বলে মনে করছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এই আইনের আরও প্রগতিশীল হওয়া এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা দরকার বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫৫

— প্রতীকী চিত্র।

কোনও নাবালিকাকে গর্ভপাত না-করানোর জন্য জোর করা যায় না— বৃহস্পতিবার এক মামলার শুনানিতে এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারেরও সমালোচনা করেছে আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, কেন্দ্রের উচিত আইন সংশোধন করা, যাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলারা গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পরেও (বিশেষ ক্ষেত্রে ২৪ সপ্তাহ পরে) স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করানোর অনুমতি পান।

চলতি মাসেই শুরুর দিকে ৩০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীকে গর্ভপাতের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের ওই নির্দেশের পুনর্বিবেচনা করার জন্য আর্জি জানিয়েছিল এমস। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। এমসের ওই আর্জি নিয়ে প্রশ্ন তোলে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। গর্ভপাতের অনুমতি না দিলে ওই শিশুকে সারাজীবন সেই মানসিক ক্ষত বয়ে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে নাবালিকা মায়ের কোনও শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে গর্ভপাত করানো উচিত বলেই মনে করছে আদালত।

এমসের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বলে, কেউ না চাইলে তাঁর উপর জোর করে গর্ভাবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যায় না। বেঞ্চের মন্তব্য, “এক বার ভেবে দেখুন, সে তো এখনও ছোট। এখন তার পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা। অথচ আমরা তাকে জোর করে মা বানাতে চাইছি। ভাবুন তো এই গোটা প্রক্রিয়ায় নাবালিকা কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছে!”

স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করানোর জন্য আইনেও সংশোধনী আনা দরকার বলে মনে করছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। কেন্দ্রের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে আপনারা আইনটি সংশোধন করুন। ধর্ষণ বা এই ধরনের ঘটনায় কেউ অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ করলে স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের জন্য যেন কোনও সময়সীমা না থাকে।” আইনের আরও প্রগতিশীল হওয়া এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা দরকার বলে মনে করছে আদালত। কেন্দ্রের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনকে এমন ভাবে সংশোধন করতে হবে যাতে এই ধরনের আবেদনগুলির এক সপ্তাহের মধ্যেই বিচার হয়ে যায়।

এমস-কে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে এবং সঠিক কাউন্সেলিং করে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে ওই নাবালিকারই হবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy