E-Paper

হৃষীকেশের বন দখলে তিরস্কার সুপ্রিম কোর্টের

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, তথ্যপ্রমাণ থেকে প্রাথমিক ভাবে দেখা যাচ্ছে যে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকার ‘কার্যত ঘুমিয়েছিল।’ ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি হাজার হাজার একর বনভূমি দখল করতে পেরেছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৬
সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হৃষীকেশে বেদখল বনভূমির বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান দু’সপ্তাহের মধ্যে আদালতের সামনে পেশ করতে উত্তরাখণ্ড সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তীব্র ভর্ৎসনার সুরে আদালত বলেছে, এত ব্যাপক আকারে বনভূমি বেদখল হতে পারত না রাজ্য প্রশাসনের ‘যোগসাজশ ও মদত’ এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার এই পরিস্থিতিকে ‘চরম উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলে, চার দশকেরও বেশি আগে জমির বরাদ্দ প্রত্যাহার করা সত্ত্বেও কী ভাবে হাজার হাজার একর বনভূমি এখনও ব্যক্তিগত দখলে রয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকারকে দখলদারদের পরিচয় প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ, যাতে বোঝা যায় দখলদারেরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও সুরক্ষা পেয়েছিল কি না।

এই মামলার সূত্রপাত প্রায় ২৮৬৬ একর জমিকে কেন্দ্র করে। ওই জমি ১৯৫০ সালে গান্ধীবাদী নেত্রী মীরা বেনের পশুলোক সেবা সমিতিকে লিজ দেওয়া হয়েছিল ভূমিহীন পরিবারদের মধ্যে বণ্টনের জন্য। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন উত্তরপ্রদেশ সরকারের বন দফতর ওই বরাদ্দ বাতিল করে এবং জমিটি রাজ্যের কাছে ফিরে আসে। তবুও বহু দশক ধরে সেখানে ব্যক্তিগত দখল অব্যাহত রয়ে গিয়েছে। গত বছর বনভূমিতে নির্মিত আবাসিক ঘর থেকে উচ্ছেদের বিরোধিতা কে আদালতেরদ্বারস্থ হন এক মহিলা। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে উত্তরাখণ্ড হাই কোর্ট উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে ঘোষণা করে। এর পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। ২২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আবাসিক নির্মাণের ব্যাপারে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলে এবং খালি জমি অবিলম্বে বন দফতরকে হাতে নিতে বলে। সেই সঙ্গে এতখানি বনাঞ্চল কী ভাবে কতটা বেদখল হয়েছে, সে ব্যাপারে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে উত্তরাখণ্ড সরকারকে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট পেশ করতে বলে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সোমবার তিরস্কারের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, তথ্যপ্রমাণ থেকে প্রাথমিক ভাবে দেখা যাচ্ছে যে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকার ‘কার্যত ঘুমিয়েছিল।’ ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি হাজার হাজার একর বনভূমি দখল করতে পেরেছে। ২০২৩ সালে তারা একবার বনভূমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে। উচ্চ আদালত দখলদারদের কিছু রক্ষাকবচ দেওয়ায় রাজ্য সরকার ‘আবার ঘুমিয়ে পড়ে’। আদালতের মতে, এই পরিস্থিতি প্রশাসন ও দখলদারদের মধ্যে একটি যোগসাজশ ও ধারাবাহিক ও দীর্ঘস্থায়ী অবহেলার ইঙ্গিত দেয়। আদালত অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে। রাজ্যকে আদালতের প্রশ্ন, “২০০০ সালে রাজ্য গঠনের পর থেকে আপনারা কী করেছেন? নিজের জমি ফেরত পেতে আদালতের আদেশের প্রয়োজন কেন হল?”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Supreme Court of India Rishikesh encroachment Land Enchroachment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy