কোনও ধর্মকে সামাজিক সংস্কারের নামে ‘ফাঁপা করে দেওয়া যায় না’ বলে মন্তব্য করেছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। কেরলের শবরীমালা মন্দিরে বয়স্থ নারীদের প্রবেশের অনুমতি সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনে বুধবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এ কথা বলে। তবে রায় ঘোষণা এখনও বাকি।
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টই রায় দিয়েছিল যে, সব বয়সের নারীদের শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বলেছিল, ‘‘নিষেধাজ্ঞাকে অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা হিসেবে গণ্য করা যায় না।’’ ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সিনারী ও কিশোরীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার প্রথাকে ‘প্রায় অস্পৃশ্যতার মতো’ বলে অভিহিত করেছিলেন বিচারপতিরা।
সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নিয়ে শুনানি চলছে এখন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন নয় বিচারপতির বেঞ্চে। বুধবার সেই বেঞ্চই বলেছে, ধর্মের ‘অপরিহার্য প্রথা’কে সামাজিক সংস্কারের নামে বাদ দেওয়া যায় না। লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাসকে ভুল বা ভ্রান্ত ঘোষণা করা আদালতের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি।
বেঞ্চে বর্তমানে শবরীমালা মামলার সঙ্গে যুক্ত সাংবিধানিক প্রশ্নগুলি নিয়ে শুনানি চলছে। ধর্মীয় বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা গ্রহণযোগ্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। ত্রিবাঙ্কুর দেবোস্বম বোর্ডের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সংবিধানের ২৫(২)(খ) এবং ২৬(খ) অনুচ্ছেদের মধ্যে ভারসাম্য রাখার কথা তোলেন। সিঙ্ঘভি যুক্তি দেন, ২৫(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হিন্দুদের সব সম্প্রদায়ই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অধিকার দাবি করতে পারে। কিন্তু ২৬(খ) ধারা অনুযায়ী, কোনও ধর্মীয় গোষ্ঠীর নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠান কী ভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণের অধিকার তাদেরই রয়েছে। সিঙ্ঘভির মতে, এই দুই ধারার মধ্যে সমন্বয় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, কোনও তৃতীয় পক্ষের করা জনস্বার্থ মামলা হঠাৎ করে শবরীমালা বা গুরুভায়ুরের মতো শতাব্দীপ্রাচীন মন্দিরের প্রথাকে প্রশ্ন করতে পারে না। নিয়মিত ধর্মীয় প্রথার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র অধিকার লঙ্ঘনের যুক্তিতে করা জনস্বার্থ মামলা গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ মানুষের মতামত না শুনে আদালত কি এ ধরনের বিষয়ে রায় দিতে পারে? বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন বলেন, কোনও বাইরের ব্যক্তি শুধু জনস্বার্থ মামলা করে এ ধরনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে তা গ্রহণ করা উচিত নয়। তাঁর কথায়, ‘‘সামাজিক কল্যাণ বা সংস্কারের নামে আমরা কোনও ধর্মকে ফাঁপা করে দিতে পারি না।’’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাসকে ভুল বলে ঘোষণা করা আদালতের কাছে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)