তারকাদের মতো মসৃণ, ঝকঝকে চুল পেতে হেয়ার স্মুদনিং করানোর চলও হয়েছে। তবে হালফিলের হেয়ার ট্রিটমেন্টের কথা যদি বলা হয়, তা হলে স্পা, কেরাটিন বা স্মুদনিংও এখন সেকেলে। আরও অনেক রকম থেরাপি হয়, যা চুলের চেহারাই বদলে দেবে। কেরাটিন থেরাপির খরচ অনেক এবং তার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথাও শোনা যায়। সে ক্ষেত্রে কেরাটিন থেরাপির মতোই চুল নরম ও মসৃণ করতে আরও এক থেরাপি আছে যা সকলেই করাতে পারেন। চুলের এই বিশেষ থেরাপিটি করাতে কোনও রাসায়নিকের প্রয়োজন হয় না। অথচ চুলে প্রোটিন সরবরাহ হয় সঠিক মাত্রায়, যা গোড়া থেকে চুলকে মজবুত করে তোলে। হারানো জেল্লাও ফিরিয়ে আনে।
কেরাটিনের বিকল্প হিসাবে সিস্টিন থেরাপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ঘাম, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ধুলোবালি আর সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকে চুল বাঁচাতে এই থেরাপিটির কদর বাড়ছে। সিস্টিন করালে চুল কেরাটিন থেরাপির মতোই ‘স্ট্রেট’ হবে এবং মসৃণও দেখাবে।
সিস্টিন থেরাপি কী?
চুলের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ তৈরি হয় কেরাটিন নামক একটি প্রোটিন দিয়ে। আর এই কেরাটিনের মূল ভিত্তি হলো সিস্টিন নামক এক অ্যামিনো অ্যাসিড। সিস্টিন থেরাপি স্বল্পমেয়াদে ‘হেয়ার স্মুদনিং’ বা ‘প্রোটিন ট্রিটমেন্ট’। চুলে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। গরমের দিনে যা বেশি হয়। সে সময়ে সিস্টিন থেরাপি করালে চুলের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ হয়। এতে চুল শুধু সুন্দর দেখায় তা নয়, চুল পড়ার সমস্যাও দূর হয়।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে করা হয়?
এই থেরাপিতে আগে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়া হয়। এর পর ভিজে চুলে সিস্টিন কমপ্লেক্স নামক প্রোটিন দিয়ে পরিচর্যা করা হয়। পুরো চুলে ব্রাশের সাহায্যে সিস্টিন প্রোটিন ক্রিম বা কমপ্লেক্স লাগানো হয়। ৩০-৪৫ মিনিট রাখা হয়।
ক্রিমটি চুলে থাকা অবস্থাতেই (না ধুয়ে) চুল আবার ব্লো-ড্রাই করে শুকোনো হয়। এর পর আয়রন বা স্ট্রেটনার দিয়ে অল্প অল্প করে চুল নিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ৪-৫ বার আয়রন করা হয়। এটি করার কারণেই সিস্টিন প্রোটিন পাকাপাকি ভাবে চুলের গোড়ায় বসে যায়।
আয়রন করার পর চুল কিছু ক্ষণ ঠান্ডা হতে দেওয়া হয়। এর পর প্রোটিন শ্যাম্পু এবং মাস্ক দিয়ে চুল শেষ বারের মতো ধুয়ে শুকিয়ে নিলেও চুল জেল্লাদার হয়ে ওঠে।
সিস্টিন হল কেরাটিনের একটি উন্নত ও নিরাপদ সংস্করণ। এতে ফর্মালডিহাইড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না। তাই এই থেরাপি করালে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় থাকে না।