জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদকে জামিন দেওয়া হবে কি না, তা বিচার করবে সুপ্রিম কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে জামিনের আইনি মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
উমরের জামিন নিয়ে আদালতের পরস্পরবিরোধী রায়ের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবারই উমর, শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন নিয়ে তাদের পূর্ববর্তী রায়ের সমালোচনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, ইউএপিএ (বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন)-তেও জামিন পাওয়াটাই নিয়ম। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ানের বেঞ্চ জানায়, উমরদের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাবে ওই নিয়ম পালন করা হয়নি। এই বিষয়ে বলতে গিয়ে বেঞ্চ ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করেছিল।
যদিও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরের দিনই দিল্লির একটি আদালত উমরের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন উমর। মায়ের অস্ত্রোপচারের সময় পাশে থাকার জন্য ১৫ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আদালত তাঁর তিন দিনের জামিন মঞ্জুর করেছে। আগামী ১ থেকে ৩ জুন পর্যন্ত তিনি শর্তসাপেক্ষে জেলের বাইরে থাকতে পারবেন। শুক্রবার এই রায় প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের কথা জানাল।
আরও পড়ুন:
দিল্লি হিংসা মামলায় ২০২০ সাল থেকে জেল খাটছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর এবং শারজিল। বিভিন্ন আদালতে বার বার জামিনের আবেদন করেছেন তাঁরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁদের আবেদন মঞ্জুর হয়নি। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দিল্লি গোষ্ঠীহিংসার ঘটনায় ইউএপিএ মামলায় অভিযুক্ত উমর এবং শারজিলের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার আর্জি শুনবে এ বার সুপ্রিম কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ।