E-Paper

দফতর বিন্যাস, ভাঙা তৃণমূল নিয়ে কথা

সোমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়েছে। তার এক দিন পরেই দিল্লিতে আসেন শুভেন্দু। তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ০৮:২৭
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

আরও এক বার কি মরাঠা নাটকের অভিনয় হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গেও? মহারাষ্ট্রে শিবসেনার একনাথ শিন্দে এবং এনসিপি-র অজিত পাওয়ার তাঁদের অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট দল থেকে বেরিয়ে এসে বিজেপিকে সরকার গড়তে সমর্থন করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে কিন্তু সরকার তৈরি বা বাঁচানোর লড়াই নয়। এখানে প্রশ্ন, বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা কে পাবে? বিধায়ক সংখ্যার বিচারে তৃণমূলের এই মর্যাদা পাওয়ার কথা। কিন্তু অন্তর্দ্বন্দ্বে দীর্ণ সেই দলে এর মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরে গিয়ে বিদ্রোহী এবং বরখাস্ত দুই বিধায়কের সঙ্গে রয়েছেন অধিকাংশ বিধায়ক, এমনই দাবি। সূত্রের খবর, এই বিষয়টিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তাই নিয়ে এ দিন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়েছে। তার এক দিন পরেই দিল্লিতে আসেন শুভেন্দু। তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। একটি সূত্রের দাবি, সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ছিলেন। সূত্রের খবর, বুধবার দফতর বণ্টন হওয়ার কথা মন্ত্রীদের মধ্যে। তার আগে শুভেন্দু সেই বিষয়টি নিয়ে নিতিন নবীন, অমিত শাহের মতো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সেরে গেলেন এ দিন। ওই সূত্রের আরও দাবি, রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তাঁদের কথা হয়। এই মুহূর্তে বিদ্রোহী হিসেবে বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যদের সঙ্গে কথা বলছেন বলেই খবর। ঋতব্রতের দাবি, ৫২-৫৫ জন বিদ্রোহী বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে আছেন। ঋতব্রতদের এই অংশটি নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে বিরোধী দলের মর্যাদা চেয়ে আবেদন করতে পারে বলেও সূত্রের খবর। রথীনও এ দিন শুভেন্দুর সঙ্গে দিল্লিতে আসেন। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের গন্তব্যও ছিল দিল্লি। রথীন্দ্র দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। তবে রাতে শুভেন্দু কলকাতা ফিরে এলেও স্পিকার রথীন্দ্র দিল্লিতেই রয়ে গিয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মহারাষ্ট্রে সরকার গড়তে এনসিপি এবং শিবসেনা-কে ‘ভাঙানোর’ দরকার ছিল বিজেপির। পশ্চিমবঙ্গে কিন্তু পরিস্থিতি তা নয়। এখানে বিরোধী দলের মর্যাদার প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋতব্রতেরা যদি ৩০-এর থেকে বেশি বিধায়কের সই নিয়ে স্পিকারের কাছে যান, সে ক্ষেত্রে সেই অংশটিকে স্পিকার বিরোধী হিসেবে মর্যাদা দেবেন কি না, দিলে সেই অংশটি তৃণমূলের মূল দল থেকে বার হয়ে আসতে পারবে কি না, অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে থাকছেন কি না— এই প্রশ্ন থাকছে।

এর পাশাপাশি, দফতর বণ্টন নিয়ে কিছু ক্ষোভ রয়েছে বিজেপির একাংশের মধ্যে। যেমন, উত্তরবঙ্গের একাংশের বক্তব্য, তাঁরা অন্তত ১৫ জন মন্ত্রী আশা করেছিলেন। সুকান্ত মজুমদারের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর, জয়ন্ত রায়ের জেলা জলপাইগুড়ির কোনও প্রতিনিধি নেই শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায়। পাহাড় এ বারে ঢেলে ভোট দিয়েছে বিজেপিকে। তার পরেও দার্জিলিঙের সমতল থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধি থাকলেও পাহাড়ের কেউ নেই। নদিয়া জেলার মতুয়া প্রধান অংশ বরাবরই বিজেপিকে জিতিয়ে এসেছে। তার পরেও সেই জেলার প্রতিনিধি নেই মন্ত্রিসভায়। পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির ১৬-০ ফলের পরে ওই জেলা থেকে এক জন পূর্ণমন্ত্রী এবং তিন জন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তবে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে দিলীপ ঘোষ ছাড়া আর কেউ জায়গা পাননি। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘এই দলটা বিজেপি। এখানে কোনও ‘কোটা’য় মন্ত্রিত্ব হয় না। সঙ্ঘের মত, জেলায় প্রভাব এবং প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতার উপরে নির্ভর করে মন্ত্রিত্ব ঠিক হয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy