আনুষ্ঠানিক ভাবে ছেলে তেজস্বী যাদবের হাতে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর ভার তুলে দিলেন লালুপ্রসাদ যাদব। রবিবার আরজেডি-র জাতীয় কার্যনির্বাহী বৈঠকে তেজস্বীকে দলের সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হল। প্রজন্ম পরিবর্তন হল আরজেডি নেতৃত্বে।
রবিবার থেকে বিহারের পটনায় শুরু হয়েছে আরজেডি-র জাতীয় কার্যনির্বাহী বৈঠক। প্রথম দিনের অধিবেশনেই তেজস্বীকে দলের জাতীয় কার্যকরী সভাপতি ঘোষণা করেছেন লালু। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী-সহ আরজেডি-র শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তেজস্বীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। খাতায়কলমে লালু এত দিন আরজেডির সর্বভারতীয় সভাপতি হলেও দলের দৈনন্দিন কর্মসূচি তত্ত্বাবধানের গুরুদায়িত্ব এত দিন ছিল পুত্র তেজস্বীরই কাঁধে। এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে তেজস্বীকে দলের কার্যকরী সভাপতি পদে বসালেন লালু।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, আরজেডি-র জাতীয় কার্যনির্বাহী সভার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই দলীয় নেতৃত্বে রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লালুর মেয়ে রোহিণী আচার্য। নাম না করে দলীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করে রোহিণী বলেছিলেন, ‘‘দলের নিয়ন্ত্রণ এখন চলে গিয়েছে অনুপ্রবেশকারী এবং ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে, লালুবাদকে ধ্বংস করাই যাদের একমাত্র লক্ষ্য!’’ পার্টির এই সঙ্কটকালে দলীয় নেতৃত্বের আত্মসমালোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছিলেন রোহিণী। উল্লেখ্য, গত বছর বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি-র শোচনীয় পরাজয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘোষণা করে রাজনীতি ছাড়েন লালু-কন্যা। সম্পর্ক ছিন্ন করেন যাদব পরিবারের সঙ্গেও। ঘটনাচক্রে, ২০২৫ সালের মে মাসে জ্যেষ্ঠপুত্র তেজপ্রতাপ যাদবকেও দল ও পরিবার থেকে ত্যাজ্য করেন লালু। তেজপ্রতাপ এখন ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দল গড়েছেন। লড়েছেন বিহারের বিধানসভা ভোটেও। তবে নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আঁচ়ড় কাটতে পারেনি তাঁর দল। এ সব পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক টানাপড়েনের মাঝেই তেজস্বীকে আরজেডি-র গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালেন লালু।