মহারাষ্ট্রের বারামতীতে অবতরণের সময় ভেঙে পড়েছে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমান। নতুন সিসিটিভি ফুটেজে ওই বিমানের একেবারে শেষ মুহূর্ত ধরা পড়েছে। দেখা গিয়েছে, শেষ মুহূর্তে হঠাৎ বিমানের বাঁ দিকের ডানাটি হেলে গিয়েছিল। এই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই প্রাথমিক ভাবে তিনটি তত্ত্ব উঠে আসছে। দুর্ঘটনার তদন্ত করছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)-র তিন সদস্যের একটি দল। বৃহস্পতিবার সকালেই বিমানটির ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। তার তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিক ভাবে যে তিনটি সম্ভাবনা উঠে আসছে, তার মধ্যে অন্যতম হল অজিতের বিমানের ইঞ্জিনে সমস্যা। অনেকে বলছেন, শেষ মুহূর্তে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। তাই পাইলটের আর কিছু করার ছিল না। বিমানের গতিবিধি সে দিকেই ইঙ্গিত করছে। তবে এই তত্ত্ব অনেকে মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, বিমান অবতরণের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেও ৬০ সেকেন্ড বিমানটি আকাশে ছিল। ইঞ্জিন বিকল হলে এই সময়ের মধ্যে পাইলট ‘মে ডে কল’ জারি করতে পারতেন।
আরও পড়ুন:
অন্য একটি তত্ত্ব বলছে, বিমানের এরোডায়নামিক স্টল হয়ে থাকতে পারে। এটি এমন একটি অবস্থা, যাতে বিমানের গতি এবং অভিমুখ পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন বিমানের ডানাগুলির উত্তোলন বন্ধ হয় এবং উচ্চতা দ্রুত কমতে থাকে। লিয়ারজেট-৪৫ বিমানের ইঞ্জিন ডানার পরিবর্তে লেজের উপর থাকে। তা-ও এই পরিস্থিতিকে ত্বরান্বিত করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
তৃতীয় তত্ত্ব বারামতী বিমানবন্দরের দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করছে। এই বিমানবন্দরে নেভিগেশন এইড ছিল না। বড় বড় বিমানবন্দরে যে সমস্ত সুযোগসুবিধা থাকে, এখানে তার অনেকগুলিই ছিল অনুপস্থিত। পাইলটকে চোখের দেখার উপরেই নির্ভর করতে হয় এখানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবতরণের সময় রানওয়ে ঠিক মতো দেখতে পাননি পাইলট। অনেক পরে তিনি বুঝতে পেরেছেন, রানওয়ে থেকে বিমান দূরে রয়েছে। তত ক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। কেন দৃশ্যমানতা কম থাকা সত্ত্বেও বিমানটিকে অবতরণের সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হল, প্রশ্ন উঠেছে। অজিতের বিমানে দু’জন পাইলট, বিমানকর্মী-সহ মোট পাঁচ জন ছিলেন। দুর্ঘটনায় সকলেরই মৃত্যু হয়েছে।